তাপ
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
1. সেলসিয়াস স্কেলের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন স্থিরাঙ্কের মান কত?
উঃ। সেলসিয়াস স্কেলের ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক 100°C। সেলসিয়াস স্কেলের নিম্নস্থিরাঙ্ক 0°C।
2. ফারেনহাইট থার্মোমিটারের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন স্থিরাঙ্কের মান কত?
উঃ। ফারেনহাইট থার্মোমিটারের ঊর্ধ্বস্থিরাঙ্ক 212°F ফারেনহাইট থার্মোমিটারের নিম্নস্থিরাঙ্ক 32°F
3. বরফ গলনের লীনতাপ কত? এর অর্থ কী?
উঃ। বরফ গলনের লীনতাপ 80 ক্যালোরি/গ্রাম। অর্থাৎ 0°C উষ্মতার 1 গ্রাম বিশুদ্ধ বরফ এই উন্নতার । গ্রাম বিশুদ্ধ জলে পরিণত হতে বাইরে থেকে 80 ক্যালোরি তাপ গ্রহণ করে।
4. জলের বাষ্পীভবনের লীনতাপ 537 ক্যালোরি/গ্রাম‘—বলতে কী বোঝ?
উঃ। 100°C উন্নতায় 1 গ্রাম জল 537 ক্যালোরি তাপ গ্রহণের মাধ্যমে 100°C উষ্ণতার | গ্রাম বাষ্পে রূপান্তরিত হয়।
5. দুটি গাছের পাতার নাম বলো যারা দিনের বেলায় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় খুলে যায় এবং রাত হলে মুড়ে যায় ?
উঃ। বাবলা এবং আমরুল গাছের পাতা দিনের বেলায় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় খুলে যায় এবং রাতে মুড়ে যায়।
6. ঘরের উষ্ণতায় এক বালতি জলে এক টুকরো বরফ ফেললে তাপ কোন্ দিকে প্রবাহিত হবে? কতক্ষণ এই তাপপ্রবাহ চলবে ?
উঃ। জলের চেয়ে বরফের তাপ কম বলে জল তাপ বর্জন করবে এবং বরফ সেই তাপ গ্রহণ করবে। অর্থাৎ তাপ জল থেকে বরফের দিকে প্রবাহিত হবে এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত জল এবং বরফগলা জলের তাপমাত্রা সমান না হয় ততক্ষণ এই তাপপ্রবাহ চলতে থাকবে।
7. উন্নতার একক কী ?
উঃ। উন্নতার একক “C (ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং °F (ডিগ্রি ফারেনহাইট)।
8. 0°C ও 0°F-এর মধ্যে কোনটি কম?
উঃ। এদের মধ্যে 0°F কম।
9. কোন্ কোন্ প্রাণীরা গরম বালিতে রোদ পোহায় ?
উঃ। গিরগিটি, সাপ প্রভৃতি ঠান্ডা রক্তের প্রাণীরা গরম বালিতে রোদ পোহায়।
10. উয়তার কোন মান সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট উভয় স্কেলেই সমান হয়?
উঃ। উচ্চতার মান উভয় স্কেলেই সমান হয়।
11. সুস্থ মানুষের দেহের উন্নতা কত?
উঃ 98.4F
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
1. তাপের সংজ্ঞা দাও। তাপের একক কী কী ?
উঃ। তাপ ঃ তাপ একপ্রকার শক্তি। দুটি ভিন্ন উন্নতার বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে এলে বেশি উষ্ণতার বস্তুটি থেকে কিছু পরিমাণ শক্তি কম উন্নতার বস্তুটিতে চলে যায়। এই বিনিময় ঘটা শক্তিকেই তাপ বলা হয়।—যা গ্রহণে কোনো বস্তু উত্তপ্ত হয় এবং যা ত্যাগ করলে ঐ বস্তু ঠান্ডা হয়ে যায়।
তাপের একক : C.GS. পদ্ধতিতে তাপের একক ক্যালোরি। S.I. পদ্ধতিতে তাপের একক জুল।
2. থার্মোমিটারের নিম্ন স্থিরাঙ্ক ও ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক বলতে কী বোঝ ?
উঃ। নিম্ন স্থিরাঙ্ক : প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে উয়তায় বিশুদ্ধ জল ফুটে বাষ্পে পরিণত হয়, সেই উন্নতাকে ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক বলা হয়।-ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক ঃ প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে নির্দিষ্ট উয়তায় বিশুদ্ধ বরফ গলে জল হয়, সেই উন্নতাকে নিম্ন স্থিরাঙ্ক বলা হয়।
3. সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেল কাকে বলে ?
উঃ। সেলসিয়াস স্কেল ঃ এর উদ্ভাবক বিজ্ঞানী আন্দ্রে সেলসিয়াস। এর ঊর্ধ্ব ও নিম্ন স্থিরাঙ্ক যথাক্রমে 100°C এবং 0°C। প্রাথমিক অন্তরের ঘরসংখ্যা 100 টি।
ফারেনহাইট স্কেল : এর উদ্ভাবক বিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল ড্যানিয়েল ফারেনহাইট। এর ঊর্ধ্ব ও নিম্ন স্থিরাঙ্ক যথাক্রমে 212°F এবং 32°F । প্রাথমিক অন্তরের ঘরসংখ্যা 180 টি।
4. গলন এবং কঠিনীভবন কাকে বলে ?
উঃ। গলন : তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের তরলে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে গলন বলে।
কঠিনীভবন : তাপ নিষ্কাশনের ফলে তরল পদার্থের কঠিনে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে কঠিনীভবন বলে।
5. বাষ্পীভবন এবং ঘনীভবন কাকে বলে?
উঃ। বাষ্পীভবন ঃ তাপ প্রয়োগে তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে বাষ্পীভবন বলে।
ঘনীভবন : তাপ নিষ্কাশনের ফলে পদার্থের বাষ্পীয় অবস্থা থেকে তরলে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে ঘনীভবন বলে।
6. লীনতাপ কাকে বলে? এর একক কী ?
উঃ। লীনতাপ : উয়তা অপরিবর্তিত রেখে একক ভরের কোনো পদার্থের অবস্থার সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটাতে যে হয়, সেই তাপকে ঐ পদার্থের ঐ অবস্থার পরিবর্তনের লীনতাপ বলে। পরিমাণ তাপ প্রয়োগ বা নিষ্কাশন করতে C.G.S. পদ্ধতিতে লীনতাপের একক ক্যালোরি/গ্রাম।
S.I. পদ্ধতিতে লীনতাপের একক জুল/ কিলোগ্রাম।
7. হাতে স্পিরিট বা ইথার ঢাললে ঠান্ডা অনুভূত হয় কেন?
উঃ। স্পিরিট বা ইথার হল উদ্বায়ী পদার্থ (এই ধরনের পদার্থের খুব তাড়াতাড়ি বাষ্পীভবন হয়)। বাষ্পীভবনের জন্য লীনতাপের প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয় লীনতাপ স্পিরিট সংলগ্ন পরিবেশ ও হাত থেকে সংগ্রহ করে। ফলে হাতের ওই অংশ তাপ হারায়। তখন পাশাপাশি অঞ্চলের তুলনায় ওই অংশের উন্নতা কমে যায়। ফলে ওই অংশে ঠান্ডার অনুভূতি হয়।
৪. মাটির কলশির জল ঠান্ডা থাকে কেন ?
উঃ। মাটির কলশির গায়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রগুলি দিয়ে সামান্য পরিমান জল কলশির বাইরে বেরিয়ে আসে। তখন তার বাষ্পীভবন ঘটে। এই বাষ্পীভবনের জন্য প্রয়োজনীয় লীনতাপ ওই বেরিয়ে আসা জল এবং কলশি তার ভেতরে থাকা জলের থেকে সংগ্রহ করে। ফলে কলশি ও কলশির জল তাপ হারিয়ে ঠান্ডা হয়ে পড়ে।
9. স্নান করে ওঠার পর পাখা চালিয়ে তার নীচে দাঁড়ালে ঠান্ডা বোধ হয় কেন?
উঃ। স্নান করে ওঠার পর আমাদের শরীরের ত্বকে কিছু জলকণা লেগে থাকে। সেই জলকণাগুলি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। এই বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার জন্য লীনতাপের প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয় লীনতাপ আমাদের শরীর ত্বক থেকে সংগ্রহ করে। ফলে তাপ হারিয়ে আমাদের শরীর ঠান্ডা হয়ে পড়ে। এই কারণে স্নান করে পাখার নীচে দাঁড়ালে ঠান্ডা বোধ হয়।
10. জল দিয়ে ঘর মোছার পর মেঝে ঠান্ডা হয় কেন?
উঃ। জল দিয়ে ঘর মোছার পর মেঝের উপর ছোটো ছোটো জলবিন্দু থাকে। এই জলবিন্দুগুলি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। এই বাষ্পীভবনের জন্য প্রয়োজনীয় লীনতাপ জলবিন্দুগুলি সংলগ্ন মেঝে থেকে সংগ্রহ করে। ফলে মেঝে তাপ হারিয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়।
11. গরমকালে ঘরের জানালা দরজা খোলা রেখে ভেজা পরদা টাঙানো হলে ঘর বেশ ঠান্ডা থাকে কেন ?
উঃ। গরমকালে ঘরের জানালা দরজায় ভেজা পরদা টাঙানো হলে, বাইরের গরম বায়ু ঘরের মধ্যে প্রবেশ করার সময় পরদায় অবস্থিত অসংখ্য জলবিন্দুগুলি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য। প্রয়োজনীয় লীনতাপ জলবিন্দুগুলি সংলগ্ন পরদা এবং সংলগ্ন বায়ু থেকে গ্রহণ করে। ফলে পরদা এবং পরদা সংলগ্ন বায়ু ঠাণ্ডা হয়। এই কারণে সমস্ত ঘর ঠান্ডা থাকে।
12. কীসের ভিত্তিতে বিভিন্ন জীবের দেহে তাপের তারতম্য হয়?
উঃ। কোনো জীব কতটা তাপ দেহের ভিতরে তৈরি করতে পারে এবং বাইরের পরিবেশের সঙ্গে ওই জীবের কতটা পরিমাণ তাপের আদান প্রদান হয় তার ভিত্তিতেই বিভিন্ন জীবের দেহে তাপের তারতম্য হয়।
আলো
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
1. আলো কী?
উঃ। আলো হল এক রকমের শক্তি যা কোনো বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়লে বস্তুটিকে আমরা দেখতে পাই।
2. আলোক কি দেখা যায়?
উঃ। না। আলো নিজে অদৃশ্য।
3. অন্ধকার কাকে বলে?
উঃ। আলোর অভাবকে অন্ধকার বলে।
4. মহাকাশকে অন্ধকার বলে মনে হয় কেন?
উঃ। মহাকাশে বস্তুকণার অস্তিত্ব প্রায় না থাকায় আলো প্রতিফলিত হতে পারে না। তাই মহাকাশকে অন্ধকার বলে মনে হয়।
5. পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?
উঃ । প্রায় 15 কোটি কিলোমিটার।
6. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছতে কত সময় লাগে?
উঃ। মাত্র 8.3 মিনিট।
7. শূন্য মাধ্যমে আলোর গতিবেগ কত?
উঃ । সেকেন্ডে 3 x 108 মিটার।
8. আলোর উৎস কাকে বলে?
উঃ। যে বস্তু আলো বিকিরণ করে, তাকে আলোক প্রভব বা আলোক উৎস বলে। সূর্য ও নক্ষত্রগুলি হল আলোর স্বাভাবিক উৎস।
9. আলোক উৎস কয় প্রকার ও কী কী ?
উঃ। আলোক উৎস দুই প্রকার। যথা— (1) স্বপ্নভ উৎস (2) নিষ্প্রভ উৎস।
10. স্বপ্নভ উৎস কাকে বলে?
উঃ। যেসব বস্তু নিজেরাই আলো বিকিরণ করে তাদের স্বপ্নভ উৎস বলে। সূর্য, নক্ষত্র, জ্বলন্ত বাতি প্রভৃতি স্বপ্নভ উৎস।
11. নিষ্প্রভ উৎস কাকে বলে?
উঃ। যে সব বস্তু নিজে আলো বিকিরণ করতে পারে না এবং যারা স্বপ্রভ উৎসের আলোয় দৃশ্যমান হয়, তাদের নিষ্প্রভ উৎস বলে। যেমন, চাঁদ, গ্রহ-উপগ্রহ, চেয়ার-টেবিল, ঘরবাড়ি, গাছপালা প্রভৃতি।
12. আলোক মাধ্যম কাকে বলে ?
উঃ। যে স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো চলাচল করতে পারে, তাকে আলোক মাধ্যম বলে। যেমন—বায়ু, জল, কাচ ইত্যাদি।
13. আলোক মাধ্যম কয় প্রকার ও কী কী ?
উঃ। আলোক মাধ্যম দুই প্রকার। যথা— (1) সমসত্ত্ব মাধ্যম (2) অসমসত্ত্ব মাধ্যম।
14. সমসত্ত্ব মাধ্যম কাকে বলে?
উঃ। যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো সব দিকে সমান বেগে চলে, তাকে সমসত্ত্ব মাধ্যম বলে। যেমন—কাচ, জল, বায়ু প্রভৃতি।
15. অসমসত্ত্ব মাধ্যম কাকে বলে?
উঃ। যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো সবদিকে সমান বেগে চলতে পারে না, তাকে অসমসত্ত্ব মাধ্যম বলে। যেমন—অভ্র, কোয়ার্টজ ইত্যাদি।
16. স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে?
উঃ। যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো সহজে চলাচল করতে পারে, তাকে স্বচ্ছ মাধ্যম বলে। যেমন- শূন্যস্থান, জল, বায়ু, কাচ ইত্যাদি।
17. ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে?
উঃ। যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো আংশিকভাবে চলাচল করতে পারে, তাকে ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম বলে। যেমন-রঙিন বা ঘষা কাচ, তৈলাক্ত কাগজ ইত্যাদি।
18. অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে?
ঊ। যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো মোটেই চলাচল করতে পারে না, তাকে অস্বচ্ছ মাধ্যম বলে। যেমন- মাটি, পাথর, কাঠ ইত্যাদি।
19. আলোক রশ্মি কাকে বলে?
উঃ । আলোক উৎস থেকে নির্গত আলো যে সরলরেখা ধরে আলোকমাধ্যমের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে যায়, সেই পথকে আলোকরশ্মি বলে। একটি সরলরেখার উপর তিরচিহ্নের সাহায্যে আলোক রশ্মির অভিমুখ নির্দেশ করা হয়।
20. রশ্মিগুচ্ছ কাকে বলে?
উঃ। পরস্পরের কাছাকাছি থাকা কতকগুলি আলোকরশ্মির সমষ্টিকে রশ্মিগুচ্ছ বলে।
21. সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ কাকে বলে?
উঃ। আলোক রশ্মিগুচ্ছ যদি পরস্পর সমাস্তরাল হয় তবে ওই রশ্মিগুচ্ছকে সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ বলে।
22. ছায়া কাকে বলে?
উঃ। আলোক উৎসের সামনে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে বস্তুটির পেছনে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানের সৃষ্টি হয় তাকে ওই বস্তুর ছায়া বলে।
23. ‘বেনীআসহকলা’ বলতে কী বোঝায়?
উঃ। বেগুনি, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল এই সাতটি রঙের সমষ্টি কে তাদের নামের প্রথম অক্ষরগুলিকে নিয়ে এক কথায় বেণীআসহকলা বলা হয়।
24. সূর্যের আলো আসলে কী ?
উঃ । সূর্যের আলো আসলে অনেক আলাদা রং- এর আলোর সমষ্টি।
25. DNA-এর পুরো নাম কী?
উঃ । ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড।
26. মেলানিন কী ?
উঃ। মেলানিন হল একরকমের রত্নক পদার্থ যা চামড়ার নীচে থাকে।
27. অতিবেগুনি রশ্মি কী?
উঃ। অদৃশ্য আলোর একটি অংশ হল অতিবেগুনি রশ্মি।
28. সূচিছিদ্র ক্যামেরার প্রতিকৃতি উলটো পড়ে কেন?
উঃ । আলো সরলরেখায় চলাচল করে বলে।
29. কোন্ দেশের মানুষের চামড়া সাদা?
উঃ ইউরোপীয় দেশের মানুষের সাদা চামড়া কারণ এদের চামড়া মেলানিন কম থাকে।
30. আফ্রিকাতে সূর্যরশ্মি প্রখর কেন?
উঃ। আফ্রিকা পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত বলে আফ্রিকাতে সূর্যরশ্মি প্রখর।
31. সূর্যরশ্মি ছাড়া গাছ কী করতে পারে না?
উঃ। খাদ্য তৈরি বা সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না।
32. কৃত্রিম আলোকে কি গাছ খাদ্য তৈরি করতে পারে?
উঃ হ্যাঁ। কৃত্রিম আলোতে গাছ খাদ্য তৈরি করতে পারে।
33. গরমকালে ফোটে এমন কয়েকটি ফুলের নাম লেখো।
উঃ। বেল, জুঁই, চাপা, কামিনী, রজনীগন্ধা।
34. শীতকালে ফোটে এমন কয়েকটি ফুলের নাম লেখো।
উঃ। গাঁদা, গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা।
35. দিনের দৈর্ঘ্য 12 ঘণ্টার বেশি হলে কোন্ ফুল ফোটে?
উঃ। গম, ভুট্টা, পালং, মূলো প্রভৃতি গাছের ফুল দিনের দৈর্ঘ্য 12 ঘন্টার বেশি হলে ফোটে।
36. দিনের দৈর্ঘ্য 12 ঘণ্টার কম হলে কোন্ কোন্ ফুল ফোটে?
উঃ চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, আখ, আলু গাছের ফুল দিনের দৈর্ঘ্য 12 ঘন্টার কম হলে তবেই ফোটে।
37. দিনের সময় কমা ও বাড়ার উপর কোন্ কোন্ ফুল ফোটে?
উঃ টম্যাটো, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
38. আলো কম পেলে কোন মাছের বাচ্চা মারা যায়?
উঃ। স্যামন মাছ।
39. সূর্যের আলো ও তাপ কম পেলে কোন্ কোন্ প্রাণী শীত ঘুমে যায়?
উঃ। গিরগিটি, সাপ, ছুঁচো, ভালুক, ব্যাং ইত্যাদি প্রাণী শীত ঘুমে চলে যায়।
40. পাপালের চলাফেরা কখন বন্ধ হয়ে যায় ?
উঃ। সূর্য যখন মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে তখন পঙ্গপালের চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়।
41. কোন প্রাণী আলো তৈরি করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে?
উঃ। জোনাকি পোকা যোগাযোগ রক্ষার জন্য আলো তৈরি করে।
42. কোন্ প্রাণীর জায়গা পরিবর্তন সূর্যের আলোর তীব্রতার উপর নির্ভর করে?
উঃ। পরিযায়ী পাখিদের। শীতের জায়গা থেকে তারা অপেক্ষাকৃত গরমের জায়গার দিকে উড়ে যায়।
43. ওজোন স্তর কীভাবে নষ্ট হচ্ছে?
উঃ। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে এমন সব গ্যাসীয় পদার্থ ওজোন স্তরে পৌঁছোচ্ছে যারা ওজোন দেয়, বা তৈরি হতে বাধা দেয়। এর ফলে ধীরে ধীরে ওজোন স্তর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
44. যৌগিক আলো কাকে বলে?
উঃ। সূর্যের আলো অনেক আলাদা রং-এর আলোর সমষ্টি। এধরনের আলোকে যৌগিক আলো বলে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
1. প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া কাকে বলে ?
উঃ। আলোক উৎস, বিন্দু আকৃতির না হয়ে যদি বড়ো আকারের হয়, তবে অস্বচ্ছ বস্তুর পিছনে যে ছায়া পড়ে তার মাঝখানে একটি গাঢ় অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান থাকে, একে প্রচ্ছায়া বলে। ওই প্রচ্ছায়ার চারপাশে অপেক্ষাকৃত কম অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান থাকে, এই অঞ্চলটিকে উপচ্ছায়া বলে। প্রচ্ছায়া অঞ্চলের কোনো অংশ থেকেই আলোক উৎসকে দেখা যায় না।
উপচ্ছায়া অঞ্চল থেকে আলোক উৎসের কিছু অংশ দেখা যায়।
2. অনেক উঁচু দিয়ে পাখি উড়ে গেলে তার ছায়া মাটিতে পড়ে না কেন?
উঃ। পাখি যখন অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে যায়, তখন পাখি ও ভূ-পৃষ্ঠের মাঝের দূরত্ব বেড়ে যায়। এই অবস্থায় পাখির প্রচ্ছায়া ক্রমশ সরু হয়ে ভূ-পৃষ্ঠের অনেক উপরে একটি বিন্দুতে পরিণত হয়। ফলে অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখির ছায়া মাটিতে পড়ে না।
3. সিনেমার পর্দা সাদা এবং অমসৃণ হয় কেন?
উঃ। সিনেমার পর্দা সাদা করা হয়। কারণ, সাদা পর্দা আপতিত আলো কে শোষণ করে না। ফলে সাদা পর্দা থেকে সব রঙের আলো সমানভাবে প্রতিফলিত হয়, তাই পর্দার উপর ছবির উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। সিনেমার পর্দা অমসৃণ করা হয়। কারণ অমসৃণ পর্দা থেকে আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয় এবং প্রতিফলিত রশ্মিগুলি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সিনেমা হলের যেকোনো জায়গা থেকে প্রতিটি দর্শক পর্দায় ছবিকে সমানভাবে দেখতে পায়।
4. সমতল দর্পণে কোনো রশ্মির আপতন কোণ 45° হলে প্রতিফলন কোণ কত হবে?
উঃ। আলোক রশ্মির নিয়মিত প্রতিফলনের ক্ষেত্রে আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ পরস্পর সমান হয়। অর্থাৎ সমতল দর্পণে কোনো রশ্মির আপতন কোণ 45° হলে ওই রশ্মির প্রতিফলন কোণও 45° হবে।
5. সমতল দর্পণে কোনো আলোক রশ্মি লম্বভাবে আপতিত হলে, প্রতিফলন কোণ কত হবে?
উঃ। প্রতিফলনের সূত্রানুসারে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ পরস্পর সমান হয়। এখন সমতল দর্পণে কোনো আলোকরশ্মি লম্বভাবে আপতিত হলে রশ্মিটি আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্বে পড়বে। ফলে ওই রশ্মির আপতন কোণ শূন্য হবে। সুতরাং রশ্মিটির প্রতিফলন কোণও শূন্য হবে। অর্থাৎ সমতল দর্পণে লম্বভাবে আপতিত আলোরকশ্মি প্রতিফলিত হবার পর ওই লম্বরেখা বরাবর আগের মাধ্যমে ফিরে আসবে।
6. ছায়ার আকৃতি ও প্রকৃতি কীসের উপর নির্ভর করে?
উঃ। (i) আলোর উৎস, (ii) অস্বচ্ছ বস্তুর আকার, (iii) আলোক উৎস থেকে অস্বচ্ছ বস্তুর দূরত্ব এবং অস্বচ্ছ বস্তু থেকে পর্দার দূরত্ব—এই কয়েকটি জিনিসের উপর উৎপন্ন ছায়ার আকার এবং প্রকৃতি নির্ভর করে। ছায়ার আকৃতি ও প্রকৃতি কেমন হবে তার কতকগুলি নিয়ম নীচে দেওয়া হল—
(১) পর্দায় সৃষ্ট ছায়াটির আকার বস্তুর আকারের মতো হয়।
(২) পর্দাকে অস্বচ্ছ বস্তুর কাছে আনলে ছায়াটির আকার ছোটো হয়ে যায়।
(৩) পর্দাকে অস্বচ্ছ বস্তুর কাছ থেকে দূরে সরালে ছায়াটির আকার ক্রমশ বড়ো হতে থাকে।
(৪) পর্দা এবং আলোক উৎস স্থির রেখে অস্বচ্ছ বস্তুটিকে পর্দার কাছে আনলে ছায়া ছোটো হয়—পর্দা থেকে দূরে সরিয়ে উৎসের দিকে নিয়ে গেলে ছায়াটি বড়ো হবে।
(৫) বস্তু এবং পর্দাকে স্থির রেখে আলোক উৎসকে বস্তুর কাছে আনলে উৎপন্ন ছায়া বড়ো হবে, উৎসকে দূরে সরালে ছায়া ছোটো হবে।
7. প্রচ্ছায়া (Umbra) কাকে বলে ব্যাখ্যা করো।
উঃ। কোনো অস্বচ্ছ বস্তুর যে ছায়া গঠিত হয় তা নির্ভর করে আলোর উৎস, পর্দার দূরত্বের উপর। আলোর উৎস যদি ক্ষুদ্র আকারের অর্থাৎ, বিন্দুর মতো হয় তাহলে প্রতিবন্ধকের যে ছায়া পড়ে তা ঘন কালো দেখায়। এই ঘন কালো ছায়াকে প্রচ্ছায়া বলে। মনে করি একটি চিত্রে চিত্রে আলোক বিন্দু উৎস। AB প্রতিবন্ধক এবং ABC পর্দার উপর প্রচ্ছায়া। S
8. উপচ্ছায়া (Penumbra) কাকে বলে? উপচ্ছায়ার গঠন বুঝিয়ে দাও।
উঃ। ছায়ার যে অংশে কিছুটা আলোক পড়ে সেই হালকা ছায়াকে বলা হয় উপচ্ছায়া। আলোর উৎস যদি আকারে বড়ো হয় কিন্তু প্রতিবন্ধকের চেয়ে ছোটো হালকা অন্ধকার হয়। মাঝের অংশটি প্রচ্ছায়া আর চারপাশের হালকা অন্ধকারময় যে অংশ থাকে তাকে উপচ্ছায়া বলে। উপচ্ছায়া অংশে উৎস থেকে কিছু আলো এসে পড়ে তাই ঘনকালো বা সম্পূর্ণ অন্ধকার দেখায় না।
9. আলোর প্রতিফলন (reficetion of light) কাকে বলে? প্রতিফলন কয় প্রকার ও কী কী?
উঃ। আলোক রশ্মি সরলরেখায় যায়। সমসত্ত্ব স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আলোক রশ্মি সরলরেখায় যায়—কিন্তু আলোক যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যায়, তখন দ্বিতীয় মাধ্যমের চকচকে তলে বাধা পেলে আলোক রশ্মির কিছু অংশ প্রথম মাধ্যমেই ফিরে আসে। এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। প্রতিফলন দুই রকম – (i) নিয়মিত প্রতিফলন ও (ii) বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন।
10. নিয়মিত প্রতিফলন (Regular reflection) কাকে বলে?
উঃ। সমান্তরাল আলোক-রশ্মিগুচ্ছ মসৃণ ও চকচকে তলের উপর পড়লে ওই রশ্মির প্রতিফলন কতকগুলি নিয়ম মেনে একটা নির্দিষ্ট দিকে রশ্মিগুলি সমান্তরাল হয়ে চলে যায়। এই রকম প্রতিফলনকে নিয়মিত প্রতিফলন বলে। যেমন, আয়নায় সূর্যের রশ্মির প্রতিফলন। নিয়মিত প্রতিফলনের ফলে বস্তুটির প্রতিবিম্ব গঠন করে।
11. বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন (Diffused reflection) কাকে বলে ?
উঃ। অমসৃণ খসখসে তলের উপর সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছ পড়লে প্রতিফলিত রশ্মিগুলি সমান্তরাল ভাবে না গিয়ে চারদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। এই রকম প্রতিফলনকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন বলে। খসখসে কাগজ, ঘষা কাচ, ঘরের দেওয়াল, সিনেমার পর্দা—এই সব থেকে এইরকম বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়। বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে কোনো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না, শুধু প্রতিফলকটিকে দেখা যায়। বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের জন্যই আমরা বই পড়তে পারি। সব জিনিস দেখতে পাই। চিত্রসহ আলোচনা করো।
24. কোনো রশ্মি দর্পণের উপর লম্বভাবে পড়লে আপাতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ কত হবে?
উঃ। কোনো রশ্মি দর্পণের উপর লম্বভাবে পড়লে আপাতন কোণ 0° এবং প্রতিফলন কোণ 0° হবে।
22. প্রতিবিম্ব কাকে বলে?
উঃ। প্রতিফলন বা প্রতিসরণের কোনো বিন্দু প্রভব থেকে যখন আলোক রশ্মি উৎপন্ন হয়ে পরে অন্য কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা মিলিত হচ্ছে বলে মনে হয় তখন ওই দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিবিম্ব বলে।
23. সদবিম্ব কাকে বলে উদাহরণ দাও ।
উঃ। কোনো বিন্দু আলোক উৎস থেকে আগত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলন বা প্রতিসরণের পর যদি প্রকৃতই কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় তাহলে ওই দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর সবিম্ব বলে। যেমন—সিনেমার পর্দায় গঠিত প্রতিবিম্ব।
24. অসবিম্ব কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উঃ। কোনো বিন্দু প্রভব থেকে আগত অপসারী আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হয়ে যদি অন্য কোনো বিন্দু থেকে অবসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় তখন ওই দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর অসবিম্ব বলে। যেমন—দর্পণের প্রতিবিম্ব হল অসবিম্ব ।
25. পার্শ্বীয় পরিবর্তন কাকে বলে?
উঃ। সমতল দর্পণে যে অসবিম্ব গঠিত হয়, তাতে ডান ও বাম এবং অন্য পশ্চাৎ উলটো হয়ে যায়। প্রতিবিম্বের এই পরিবর্তনকে পার্শ্বীয় পরিবর্তন বলে। অর্থাৎ আয়নায় গঠিত প্রতিবিম্ব সমশীর্ষ হয়।
26. বস্তুর দূরত্ব ও প্রতিবিম্বের দূরত্বের মধ্যে সম্পর্ক কী ?
উঃ। বস্তুর দূরত্ব = প্রতিবিম্বের দূরত্ব।
27. গ্লিসারিনে ডোবালে কাচের দণ্ড দেখা যায় কি? যুক্তি দাও।
উঃ। না, দেখা যায় না। গ্লিসারিন ও কাচের প্রতিসরাঙ্ক প্রায় সমান হওয়ার জন্য কোনো সময় আলো ওদের বিভেদতল থেকে প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে পৌঁছাতে পারে না। সেজন্য গ্লিসারিনে ডোবালে কাচের দণ্ড দেখা যায় না।
28. আকাশে যে রংধনু তুমি দেখতে পাও তা আসলে কী এবং তা আলোর কোন্ ধর্মের জন্য ঘটে? প্রিজম ছাড়া কীভাবে তা সম্ভব হয়?
উঃ। আকাশের রংধনু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। সূর্যের সাদা আলোর বিচ্ছুরণের জন্য এটি ঘটে। সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে ভাসমান জলকণার মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো যাওয়ার সময় বিচ্ছুরণের ফলে আকাশে যে সাতটা আলোর পট্টি গঠিত হয় তাই হল রংধনু। এখানে জলকণাই প্রিজমের কাজ করে।
সময় ও গতি
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
1.গতি কয় প্রকার ও কি কি ?
উঃ। গতি দুই ধরনের—(1) চলন গতি। (2) আবর্ত গতি।
2. ঘূর্ণায়মান বৈদ্যুতিক পাখার গতি কী ধরনের গতি?
উঃ। আবর্ত গতি।
3. ভূপৃষ্ঠে পতনশীল পাথরখণ্ডের গতি কী ধরনের গতি?
উঃ। চলন গতি।
4. চলন্ত গাড়ির চাকার গতি কী ধরনের গতি?
উঃ । মিশ্রগতি।
5. সরণ কী ?
উঃ। কোনো নির্দিষ্ট দিকে গতিশীল কোনো বস্তুর একই পথ অতিক্রম করাকে বা অবস্থানের পরিবর্তন কে ওই বস্তুর সরণ বলে।
6. একটি ক্রিকেট বল ভূমির উপর দিয়ে সবেগে গড়াতে গড়াতে চলছে। ক্রিকেট বলটি কী কী গতির অধিকারী ?
উঃ। ক্রিকেট বলটি চলনগতি ও ঘূর্ণনগতির অধিকারী হবে।
7. দ্রুতি কী ?
উঃ। একটি গতিশীল কণা একক সময়ে যে পথ অতিক্রম করে, তাকে ওই কণার দ্রুতি বলা হয়।
৪. ত্বরণ কী?
উঃ। চলমান বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলা হয়।
9. মন্দন কী?
উঃ। সময়ের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর বেগ হ্রাস পাওয়ার হারকে মন্দন বলে।
10. বেগ কী?
উঃ। কোনো গতিশীল বস্তু একক সময়ে নির্দিষ্ট দিকে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে বস্তুটির বেগ বলা হয়।
11. বেগের একক কী ?
উঃ । SI পদ্ধতিতে বেগের একক মিটার/সেকেন্ড।
12. সরণের একক কী ?
উঃ । S.I. পদ্ধতিতে সরণের একক মিটার।
13. বল কী ?
উঃ। বাইরে থেকে যা প্রয়োগ করে বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করা হয় বা করানোর চেষ্টা করা হয় তাকে বল বলে।
14. প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থের লেখক কে?
উঃ স্যার আইজ্যাক নিউটন।
15. নিউটনের কয়টি গতি সূত্র?
উঃ। নিউটনের তিনটি গতি সূত্র।
16. শক্তি কী ?
উঃ। কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে।
17. খাবার থেকে আমরা কী পাই?
উঃ। খাবার থেকে আমরা শক্তি পাই।
18. কাজ পরিমাপের SI পদ্ধতিতে একক কী ?
উঃ। জুল।
19. কাজের পরিমাণ কীসের ওপর নির্ভর করে?
উঃ। কাজের পরিমাণ = ( প্রযুক্ত বল ) × ( প্রযুক্ত বলের প্রভাবে বস্তুর সরণের পরিমাণ)
20. শ্বসনের হার বেড়ে যাওয়ার জন্য কী উৎপন্ন হয়?
উঃ। তাপ উৎপন্ন হয়।
21. উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও বেগের পরিবর্তন হলেও ত্বরণের মান শূন্যই থাকে।
উঃ। সমুদ্রতিতে বৃত্তপথে আবর্তনশীল কোনো বস্তুকণার গতি।
22. নিউটনের কোন্ সূত্রকে জাড্যের সূত্র বলা হয় ?
উঃ। প্রথম গতিসূত্রকে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
1. শক্তির সংজ্ঞা দাও। শক্তির বিভিন্ন রূপ কী কী ?
উঃ। কোনো বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। অর্থাৎ কাজ ও শক্তির একক অভিন্ন।
শক্তির বিভিন্ন রূপ—তাপশক্তি, আলোকশক্তি, যান্ত্রিক শক্তি, শব্দশক্তি, তড়িৎ শক্তি, চৌম্বক শক্তি, রাসায়নিক শক্তি।
2. বস্তুর ভর ও জাড্যের মধ্যে সম্পর্ক কী ?
উঃ। জাড্য পদার্থের মৌলিক ধর্ম। বস্তুর ভর বেশি হলে ওর জাড্যও বেশি হয় সুতরাং ভরই জাড্যের পরিমাপক।
3. জাড্য কয় প্রকার ও কী কী?
উঃ। জাড্য দুই প্রকার, স্থিতিজাড্য ও গতিজাড়া।
5. কার্যহীন বল কী ? উদাহরণ দাও।
উঃ। বস্তুর উপর প্রযুক্ত কোনো বল যখন বস্তুর সরণের অভিমুখের সঙ্গে লম্বভাবে ক্রিয়া করে তখন ওই বল কোনো কার্য করে না। এই বলকে কার্যহীন বল বলে।
6. কোন্ কোন্ ঘটনা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে শরীরের ভেতর শক্তি খরচ হয়েছে?
উঃ। শরীরের ক্লান্তি, হৃৎস্পন্দনের হার বৃদ্ধি, গা গরম হওয়া ইত্যাদি ঘটনা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে শরীরের ভেতর শক্তি খরচ হয়েছে।
7. টীকা লেখো : স্যার আইজ্যাক নিউটন।
উঃ। স্যার আইজ্যাক নিউটন : 1642 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের উলসথর্প গ্রামে এক চাষির পরিবারে স্যার আইজ্যাক নিউটন জন্মগ্রহণ করেন। 1669 খ্রিস্টাব্দে মাত্র 27 বছর বয়সে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হন। তাঁর গতিসূত্র, মহাকর্মসূত্র, সূর্যরশ্মির বর্ণালি, আলোর কণিকাতত্ত্ব, দ্বিপদ উপপাদ্য, ক্যালকুলাস বিজ্ঞান ও গণিতের জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে। তাঁর লেখা বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘প্রিন্সিপিয়া । 1672 থেকে টানা 25 বছর তিনি রয়াল সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। 1727 খ্রিস্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান হয়।
8. গড়দ্রুতি বলতে কী বোঝ?
উঃ। কোনো বস্তুকণা যদি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে, তবে সেই গতি বোঝাতে গড়দ্রুতির ধারণা ব্যবহার করা হয়।
9. গড়বেগ বলতে কী বোঝায় ?
উঃ। কণার গতি যদি শুধু মাত্র সরলরেখা বরাবর সীমাবদ্ধ থাকে তবে গড়দ্রুতির পরিবর্তে গড়বেগ ব্যবহার করা হয়।
6. ‘অতিক্রান্ত দূরত্ব’ বলতে কী বোঝায়?
উঃ। যে কোনো দিকে বস্তুকণার অবস্থানের পরিবর্তন ঘটলে তার প্রাথমিক ও অস্তিম অবস্থানের মধ্যবর্তী পথকে বস্তুকণার অতিক্রান্ত দূরত্ব বলা হয়।
7. তাৎক্ষণিক দ্রুতি কাকে বলে?
উঃ। কোনো গতিশীল কণা বা বস্তুর গতির কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে মানকে বলা হয় তাৎক্ষণিক দ্রুতি। যেমন— মোটর গাড়ির স্পিডোমিটারের কাটা।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর :
1. নিউটনের তিনটি গতি সূত্র বিবৃত করো।
উঃ। নিউটনের প্রথম গতিসূত্র–বাইরে হতে বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে বা সমবেগে সরলরেখা বরাবর গতিশীল কোনো বস্তু চিরকাল ও একই গতিতে একই সরলরেখা ধরে চলতে থাকে। উদাহরণ – স্থির বাস হঠাৎ চলতে আরম্ভ করলে কোনো কিছু না ধরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী পিছনদিকে হেলে পড়ে। পাখিরা উড়তে উড়তে ডানা ঝাপটানো বন্ধ করেও দিব্যি ডানা মেলে বাতাসে ভেসে ভেসে এগিয়ে যায়। নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্র–কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে প্রযুক্ত হয়, ভরবেগের পরিবর্তনও সেই দিকে ঘটে। নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।
উদাহরণ—বন্দুক থেকে গুলি ছুঁড়লে বন্দুক পিছনের দিকে ধাক্কা দেয়।
2. কাজ কী? কীভাবে কাজের পরিমাপ করা হয়?
উঃ। কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে যদি বলের প্রয়োগ বিন্দুর সরণ ঘটে তবে প্রযুক্ত বল কার্য করছে বলা হয়। কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল এবং ঐ বলের অভিমুখে বলের প্রয়োগ বিন্দুর সরণের গুণফল দ্বারা কার্যের পরিমাপ করা হয়।
মনে করি কোনো বস্তুর উপর F বল ক্রিয়া করাতে বলের অভিমুখে বলের প্রয়োগ বিন্দুর সরণ S হল, তবে কৃতকার্য W = FXS অর্থাৎ কৃতকার্য = বল x সরণ।
3. নিউটনের প্রথম গতিসূত্র থেকে কীভাবে বলের সংজ্ঞা পাওয়া যায় ?
উঃ। নিউটনের প্রথম গতিসূত্র থেকে আমরা জানি যে, কোনো বস্তুর স্থির বা প্রথম গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে বাইরে থেকে বস্তুটির উপর বল প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাইরে থেকে বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করা সত্ত্বেও বস্তুর জড় অবস্থার পরিবর্তন ঘটে না। যেমন— ধাক্কা দিয়ে ইটের দেওয়াল সরানো যায় না। সেইহেতু বলের সংজ্ঞা হিসাবে বলা যায়—বাইরে থেকে যা প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করা হয় বা করানোর চেষ্টা করা হয়, তাকেই বল বলা হয়।
4. নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রটির গাণিতিক রূপ লেখো।
উঃ। যদি m ভরের কোনো বস্তুর উপর P বল ক্রিয়া করে বস্তুটিতে ত্বরণ সৃষ্টি করে তবে নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্র থেকে পাই, প্রযুক্ত বল = বস্তুর বল x এক সেকেন্ডে বস্তুর বেগের পরিবর্তন = বস্তুর ভর × বস্তুতে উৎপন্ন ত্বরণ F = m xa
অর্থাৎ P = mf. এটিই নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রের গাণিতিক রূপ।
5. নিউটনের প্রথম গতিসূত্রকে জাড্যের সূত্র বলা হয় কেন?
উঃ নিউটনের প্রথম গতিসূত্রটি থেকে জানা যায় যে, স্থির বস্তু নিজে থেকে সচল হতে পারে না কিংবা সচল বস্তু নিজের থেকে তার গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে না। স্থির বস্তুর ধর্ম চিরকাল স্থির থাকা এবং গতিশীল বস্তুর ধর্ম সমবেগে একই সরলরেখায় চলতে থাকা। এটি জড় পদার্থের একটি মৌলিক ধর্ম। এই ধর্মের জন্যই বস্তু তার স্থিতি বা গতি অবস্থা পরিবর্তনের যে কোনো রেখাকে বাধা দেয়। পদার্থের এই ধর্মের নাম জাড্য বা জড়তা। এজন্য নিউটনের প্রথম সূত্রকে জাড্যের সূত্র বা জড়তার সূত্র বলা হয়।
6. উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুসারে ‘প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী একটি প্রতিক্রিয়া বল আছে।’
উঃ। নৌকা থেকে লাফ দিয়ে নামার সময় নৌকা জলে পিছিয়ে যায়। আমরা নামার সময় নৌকাটাকে পিছন দিকে ঠেলি। নৌকাটি আমাদের দেওয়া বলের উলটোদিকে সমান জোরে আমাদের পায়ে বলপ্রয়োগ করে, আর সেই বলই আমাদের সামনের দিকে ঠেলে দেয়। এ থেকেই বোঝা যায় প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল রয়েছে। ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সবসময় একসঙ্গেই ঘটে। তাই যে কোনো একটা ক্রিয়া হলে অন্যটি হবে তার প্রতিক্রিয়া। এই ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া আলাদা আলাদা বস্তুর ওপর কাজ করে। তাই আমরা নৌকার ওপর বল প্রয়োগ করি আর নৌকার বল প্রয়োগ হয় আমাদের পায়ের ওপর।
পরমাণু অনু,ও রাসায়নিক বিক্রিয়া
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
1. বোরনের চিহ্ন কী ?
উঃ । Br.
2. টিনের চিহ্ন কী? এর ল্যাটিন নাম কী?
উঃ । Sn, স্ট্যানাম ।
3. সিসার ল্যাটিন নাম ও চিহ্ন কী ?
উঃ । প্রাম্বাম, Pb
4. কার্বনের নিউট্রনসংখ্যা কত?
উঃ । 61
5. বাইকার্বনেট এর সংকেত কী ?
উঃ । HCO3
6. হাইড্রক্সাইড এর যোজ্যতা কত?
উঃ1
7. অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডের সংকেত কী ?
উঃ AICI
8. জিঙ্ক ক্লোরাইডের সংকেত কী ?
উঃ ZnCl
9. ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইডের ক্লোরিনের যোজ্যতা কত?
উঃ 2
10. কার্বন টেট্রাক্লোরাইডের সংকেত কী?
উঃ CCL
11. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড যৌগে APH এর যোজ্যতা কত?
উঃ 3
12. Zn(NO3), এই যৌগের নাম কী?
উঃ। জিঙ্ক নাইট্রেট।
13. Na, PO এই যৌগের নাম কী?
উঃ । সোডিয়াম ফসফেট।
14.পটাশিয়াম ফ্লুরাইডের যৌগের সংকেত কী ?
উঃ Kf.
15. সংযোজন বিক্রিয়ার উদাহরণ দাও।
উঃ Fe + S → FeS
16. প্রত্যক্ষ সংযোগের একটি উদাহরণ দাও।
উঃ C + O2 CO
17. সালফার টেট্রাফ্লুওরাইড এর সংকেত লেখো।
উঃSF
18. NaF-এর পুরো নাম কী?
উঃ। সোডিয়াম ফুওরাইড।
19. ক্লোরিনের প্রোটন সংখ্যা ও ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
উঃ 17, 17
20. সোডিয়াম-এর ইলেকট্রন ও নিউট্রন সংখ্যা কত?
উঃ 11, 12
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
1. চিহ্ন কাকে বলে ?
উঃ। যার দ্বারা মৌলিক পদার্থের নাম সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়ে থাকে তাকে চিহ্ন বলা হয়। অথবা বলা যেতে পারে মৌলের একটি পরমাণুকে সংক্ষেপে যে ইংরেজি বর্ণমালার সাহায্যে প্রকাশ করা হয়, তাকে চিহ্ন বলে।
2. সংকেত কাকে বলে?
উঃ। যার দ্বারা কোনো মৌল বা যৌগের একটি অণুকে চিহ্নের সাহায্যে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়, তাকে ঐ মৌলের বা যৌগের সংকেত বলে।
3. অণু কী?
উঃ। কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের যে ক্ষুদ্রতম কণাতে ওই পদার্থের সকল ধর্ম থাকে এবং যে কণা স্বাধীন। ভাবে থাকতে পারে তাকে ওই মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণু বলা হয়।
4. পরমাণু কী?
উঃ। কোনো মৌলের যে ক্ষুদ্রতম কণাতে ওই মৌলের সব ধর্মই বর্তমান এবং যে কণা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে ওই মৌলের পরমাণু বলে।
5. কত ধরনের কণা পরমাণুতে থাকে ও কী কী ?
উঃ। তিন রকমের কণা পরমাণুতে থাকে।
এগুলি হল—ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন।
6. ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উঃ। ইলেকট্রন—এগুলি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান যুক্ত কণা। প্রোটন—এগুলি ধনাত্মক আধান যুক্ত কণা। নিউট্রন—এটি নিস্তড়িৎ কণা।
এই কণাগুলি বৈশিষ্ট্যগুলি হল—একটি প্রোটন ও ইলেকট্রনিক তড়িতের পরিমাণ সমান। একটি ধনাত্মক তড়িৎ ও একটি ঋণাত্মক তড়িৎ থাকলে নিস্তড়িৎ অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রোটন ও ইলেকট্রন পরস্পরকে আকর্ষণ করে ইলেকট্রন ও প্রোটনরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে।
7. পারমাণবিক সংখ্যা কাকে বলে?
উঃ। কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন সংখ্যাকে তার পরমাণু ক্রমাঙ্ক বা তার পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
৪. একটি ইলেকট্রনের ভর প্রোটন বা নিউট্রনের ভরের কত ভাগ?
উঃ। একটি ইলেকট্রনের ভর প্রোটন বা নিউটনের ভরের প্রায় 1800 ভাগের এক ভাগ।
9. পরমাণুর ভর বলতে কী বোঝ?
উঃ। প্রোটন ও নিউট্রনের মোট ভরই কোনো পরমাণুর ভর।
10. ভরসংখ্যা বলতে কী বোঝ?
উঃ। কোনো মৌলের পরমাণু নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাই ওই পরমাণুর ভরসংখ্যা।
11. H+ ও H বলতে কী বোঝ?
উঃ। একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর একটি ইলেকট্রন বর্জনের ফলে সৃষ্ট মুক্ত হাইড্রোজেন আয়ন । এর মধ্যে একটি প্রোটন আছে। হাইড্রোজেন মৌলের চিহ্ন, এর দ্বারা একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বোঝায়। এর একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন আছে।
12. F, Br, Ne, U, V এগুলি কোন কোন মৌলের চিহ্ন?
উঃ। F—ফুওরিন, Br – ব্রোমিন, Ne—নিয়ন, U—ইউরেনিয়াম, V ভ্যানাডিয়াম।
13. সোডিয়ামের প্রোটন সংখ্যা, ইলেকট্রন সংখ্যা, নিউট্রন সংখ্যা, পারমাণবিক ক্রমাঙ্ক ও ভর সংখ্যা কত?
উঃ। প্রোটন সংখ্যা−11, ইলেকট্রন সংখ্যা -11, নিউট্রন সংখ্যা – 12, পারমাণবিক ক্রমাঙ্ক—11, ভরসংখ্যা –23
14. কয়েকটি যৌগের সংকেত লেখো।
উঃ। অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড—AICI, কিউপ্রিক ক্লোরাইড—AgCl সিলভার ক্লোরাইড—PHCl, “
15.কোনগুলি বিকারক ও কোনগুলি বিক্রিয়াজাত পদার্থ ?
উঃ। নাইট্রোজেন (N.) এবং হাইড্রোজেন (H.) হল বিকারক এবং অ্যামোনিয়া হল বিক্রিয়াজাত পদার্থ।
16. যোজ্যতা কাকে বলে।
উঃ। দুটি মৌলের পরস্পর যুক্ত হবার ক্ষমতাকে ওই মৌলগুলির যোজন ক্ষমতা বা যোজ্যতা বলে।
17. ক্যাটায়ন কীভাবে উৎপন্ন হয়?
উঃ। মৌলের পরমাণু থেকে এক বা একের বেশি ইলেকট্রন বেরিয়ে গেলে প্রোটন সংখ্যা থেকে ইলেকট্রন সংখ্যা কম হয়ে যায়। তখন ধনাত্মক আধানযুক্ত আয়ন বা ক্যাটায়ন উৎপন্ন হয়।
18. অ্যানায়ন কাকে বলে।
উঃ। পরমাণু এক বা একের বেশি ইলেকট্রন নিয়ে নিলে প্রোটন সংখ্যার থেকে ইলেকট্রন সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। ফলে ধনাত্মক আধান যুক্ত আয়ন তৈরি হবে, একে অ্যানায়ন বলা হয়।
19. রাসায়নিক বিক্রিয়া কয় প্রকার ও কী কী ?
উঃ। রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রধানত চার প্রকার (i) প্রত্যক্ষ সংযোগ বিক্রিয়া (ii) বিয়োজন বিক্রিয়া (iii) প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (iv) বিনিময় বিক্রিয়া।
20. প্রত্যক্ষ সংযোগ বিক্রিয়া কাকে বলে ?
উঃ। যে রাসায়নিক দুই বা তা বেশি মৌল সরাসরি নিজেদের মধ্যে যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ গঠন করে, তাকে প্রত্যক্ষ সংযোগ বিক্রিয়া বলে।
20. বিয়োজন বিক্রিয়া কাকে বলে?
উঃ। যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কোনো যৌগ বিয়োজিত হয়ে একাধিক মৌল বা যৌগ পরিণত হয় তাকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলে।
21. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া কাকে বলে?
উঃ। কোনো বিক্রিয়ায় একটা মৌল অন্য মৌলের যৌগ থেকে তাকে সরিয়ে সেই জায়গা নেয়, তাকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে। যেমন : Zn + CuCl, → ZnCl2 + Cu.
22. বিনিময় বিক্রিয়া কাকে বলে?
উঃ। যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুটি যৌগের উপাদান বা মূলকগুলি পরস্পর স্থান বিনিময় করে দুটি নতুন যৌগ উৎপন্ন করে তাকে বিনিময় বিক্রিয়া বলে।
23. রাসায়নিক সমীকরণ কাকে বলে?
উঃ। আমরা যখন বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেত ব্যবহার করে রাসায়নিক বিক্রিয়াটিকে সংক্ষেপে প্রকাশ করি তখন তাকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। যেমন কার্বনকে অক্সিজেনে দহন করলে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এই বিক্রিয়াটিকে সমীকরণের সাহায্য দেখলে হবে _ C + O2 = CO
24. পরিবর্তনশীল যোগ্যতা কাকে বলে?
উঃ। কতকগুলি মৌলের একাধিক যোগ্যতা থাকে যাকে পরিবর্তনশীল যোগ্যতা বলে। এই সকল মৌলের যোগ্যতার দুটি স্তর দেখা যায়। যে সব যৌগে মৌলের যোগ্যতা কম সেই যৌগে তাদের নামের শেষে ‘আস’ এবং যে যৌগ ওই মৌলেরই যোগ্যতা অপেক্ষকৃত বেশি তাদের নামের শেষে ‘ইক’ যুক্ত হয়েছে, যেমন— ফেরাস ও ফেরিক যৌগে আয়রনের যোজ্যতা যথাক্রমে 2, 3, 3,1
25. বিক্রিয়ক পদার্থ কাকে বলে?
উঃ। রায়ায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পদার্থগুলিকে বিক্রিয়ক পদার্থ বলে।
26. বিক্রিয়াজাত পদার্থ বলতে কী বোঝ ?
উঃ। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ফলে যেসব নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ উৎপন্ন হয়, সেই পদার্থগুলিকে বিক্রিয়াজাত পদার্থ বলে।
27.. মূলক কাদের বলা হয়?
উঃ। বিভিন্ন মৌলের পরমাণু যখন জোটবদ্ধ আয়নরূপে অবস্থান করে তখন তাদের সাধারণভাবে মূলক বলা হয়।
28.. পরমাণুর কেন্দ্রক কাকে বলে?
উঃ। প্রোটন ও নিউটনগুলো পরমাণুর কেন্দ্রে একটা ছোটো জায়গায় জোট বেঁধে থাকে। এই জায়গাটিকে পরমাণুর কেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াস বলা হয়।
29. কক্ষপথ কাকে বলে?
উঃ। ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে ঘিরে বিভিন্ন পথে ঘুরে বেড়ায়। যে পথগুলোতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসে চারদিকে ঘোরে তাদের কক্ষপথ বলে।
30. আয়ন কীভাবে তৈরি হবে?
উঃ। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ধাতু ও অধাতু জুড়ে যৌগ তৈরি হবার সময় সাধারণত ধাতুর পরিমাণগুলো ইলেকট্রন ছাড়ে আর অধাতুর পরমাণুগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে। এর ফলেই আয়ন তৈরি হয়ে থাকে।
পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
1. কয়টি মৌল নানা যৌগের আকারে জীবদেহে থাকে?
উঃ। 22টি মৌল নানা যৌগের আকারে জীবদেহে থাকে।
2. কটি মৌল দিয়ে পৃথিবীর বেশিরভাগ জিনিষ তৈরি হয়েছে?
উঃ। প্রায় 72টি মৌল দিয়ে পৃথিবীর বেশিরভাগ জিনিস তৈরি হয়েছে
3. এমন একধরনের জৈব যৌগের নাম লেখো যা পৃথিবীপৃষ্ঠে যৌগদের মধ্যে পাওয়া যায় না।
উঃ। গ্লুকোজ।
4. জীবদেহ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যৌগের নাম লেখো।
উঃ। জল।
5. মানুষের দেহে জলের পরিমাণ শতকরা কত?
উঃ । একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে এই জলের পরিমাণ দেহের ওজনের প্রায় 60 শতাংশ।
6. জীবদেহে কীসের পরিমাণ বেশি থাকলে জলের পরিমাণ কমে যায়?
উঃ। ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকলে।
7. শামুক, ঝিনুকদের দেহের বাইরে কী থাকে?
উঃ। ক্যালশিয়াম কার্বনেটের শক্ত খোলক।
৪. মানবদেহের অতি প্রয়োজনীয় চারটি ধাতুর নাম লেখো।
উঃ। সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন।
9. মেটে বা লিভারে কীসের যৌগ আছে?
উঃ। মেটে বা লিভারে আয়রন ঘটিত যৌগ আছে।
10. ক্যালশিয়াম ট্যাবলেটে কোন্ জৈব যৌগ আছে?
উঃ। ক্যালশিয়াম কার্বোনেট (CaCO) |
11. ডাক্তাররা ছোটো মাছ খেতে বলেন কেন?
উঃ। ছোটো মাছের হাড়ে ক্যালশিয়াম ফসফেট যোগ থাকে।
12. চারটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগের নাম কী কী?
উঃ। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড, নিউক্লিক অ্যাসিড।
13. জ্বালানি খাদ্য কী ?
উঃ। শর্করা।
14. এমন দুটি প্রাণীর নাম করো যাদের চামড়ার নীচে পুরু লিপিডের স্তর দেখা যায়?
উঃ। তিমি, গন্ডার।
15. রাতের বেলায় শিকার করতে বেরোয় এমন একটি প্রাণীর নাম লেখো।
উঃ। পেঁচা।
16. কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর বংশধররা কেমন দেখতে হয় তা ঠিক করে কে?
উঃ। নিউক্লিক অ্যাসিড।
17. আমাদের দেহের নানান বিক্রিয়া তাড়াতাড়ি ঘটতে কে সাহায্য করে?
উঃ। বিভিন্ন উৎসেচক।
18. ভিনিগারের দ্রবণের স্বাদ কেমন?
উঃ । কষা।
19. ফল ছাড়া এমন কয়েকটি জিনিসের নাম লেখো যাদের স্বাদ টক।
উঃ। টকে যাওয়া দুধ, ভিনিগার, দই।
20. অ্যাসিড কথাটা কোথা থেকে এসেছে?
উঃ । ল্যাটিন শব্দ ‘অ্যাসিডাস’ থেকে।
21. আপেলে কোন্ অ্যাসিড থাকে?
উঃ। ম্যালিক অ্যাসিড।
22. টম্যাটোতে কোন্ অ্যাসিড থাকে?
উঃ। টম্যাটোতে ম্যালিফ অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে।
23. দইতে কোন্ অ্যাসিড থাকে?
উঃ। ল্যাকটিক অ্যাসিড।
24. জামাকাপড়ে দাগ তোলার জন্য কী ব্যবহার করা হয়?
উঃ। লেবুর রস।
25. মিউরেটিক অ্যাসিড কোন্ কাজে ব্যবহার হয়?
উঃ। বাথরুম পরিষ্কারে ব্যবহৃত হয়।
26. ভিনিগার কোন্ কাজে ব্যবহৃত হয়?
উঃ। মাছ মাংস সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
27. খাবার সোডার দ্রবণের স্বাদ কেমন?
উঃ । কষা।
28. মাছ চাষ করতে গেলে পুকুরের জলে কলিচুন মেশানো হয় কেন?
উঃ। জলের অম্লত্ব কমানোর জন্য জলে কলিচুন মেশানো হয়।
29. ক্ষারক কাকে বলে?
উঃ। যারা অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া তাদের ক্ষারক বলে।
30. ক্ষার কী?
উঃ। যে সমস্ত ক্ষারক জলে দ্রবীভূত হয় তাকে ক্ষার বলে।
31. মানুষের পাকস্থলীতে কোন্ অ্যাসিড পাওয়া যায়?
উঃ। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।
32. হলুদের জল অ্যাসিডে ও ক্ষারকে কী রং হয়?
উঃ। অ্যাসিডে-বাদামি, ক্ষারকে – গাঢ় হলুদ।
33. কালোজামের রস অ্যাসিডে ও ক্ষারকে কী রং হয়?
উঃ। অ্যাসিডে – নীল, ক্ষারকে — বেগুনি।
34. কয়েকটি নির্দেশকের নাম লেখো।
উঃ। লিটমাস, ফেনলথালিন বা মিথাইল অরেঞ্জ।
35. জলে অ্যাসিড না ক্ষারীয় কোন্ ধর্ম দেখা যায় ?
উঃ। জল প্রশম প্রকৃতির পদার্থ ফলে অ্যাসিড বা ক্ষারীয় কোনো ধর্মই দেখা যায় না।
36. pH স্কেলের কাজ কী?
উঃ। কোন দ্রবণ কতটা আম্লিক বা কতটা ক্ষারীয় তা মাপা হয় pH স্কেলের সাহায্যে।
37. প্রশম দ্রবণে pH কত?
উঃ । 25°C উয়তায় যেমন জলের pH,
38. কোনো দ্রবণ আম্লিক বা ক্ষারীয় তা কীভাবে বোঝা যাবে ?
উঃ। যে দ্রবণের pH,-এর থেকে কম সেটি আম্লিক প্রকৃতির। যে দ্রবণে pH,-এর থেকে বেশি (14 পর্যন্ত) তা ক্ষারীয় প্রকৃতির।
39. পিত্তরসের pH এর মান কত?
উঃ। 8.0 8.601
40. মূত্রের pH কত ?
উঃ । 4.0-8.0 ।
41. লালারসের pH কত?
উঃ । 6.02-7.051
42. মানুষের প্রতিদিনের খাবারের কত শতাংশ আম্লিক ও কত শতাংশ ক্ষারীয় ?
উঃ। আম্লিক – 20 শতাংশ, ক্ষারীয় – 80 শতাংশ।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
1. অম্লরাজ বা অ্যাকোয়ারিজিয়া কাকে বলে ? এর ব্যবহার লেখো ?
উঃ। তিন আয়তন গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং এক আয়তন গাঢ় নাইট্রিক অ্যাসিডের (HNO, ) মিশ্রণকে অম্লরাজ বা অ্যাকোয়ারিজিয়া বলে। সোনা (Au), প্লাটিনাম (Pt) এবং ইরিডিয়াম (Ir) প্রভৃতি ধাতু দ্রবীভূত করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
2. আমড়া বা তেঁতুল গাছের তলায় বীজ থেকে অন্য গাছের চারা জন্মাতে চায় না কেন?
উঃ। এই গাছগুলির পাতায় অ্যাসিড থাকে। পাতা চিবোলেও টক স্বাদ পাওয়া যায়। ফলে মাটিতে পড়া পাতা থেকে গাছের নীচের মাটির অম্লত্ব বেড়ে যায়। তখন মাটির অম্লত্ব কমানোর জন্য মাটিতে চুন মেশানো হয়। সেইজন্য চারা জন্মায় না। আবার পুকুরে মাছ চাষ করার সময় জলের অম্লত্ব কমানোর জন্য জলের মধ্যে চুন মেশানো হয়।
3. থাইরয়েড কী? এর সমস্যা কাকে বলে ?
উঃ। আমাদের গলায় স্বরযন্ত্রের ওপরের দুপাশে ছোটো একটা গ্রন্থি আছে। একে থাইরয়েড গ্রন্থি বলে। এই গ্রন্থির কার্যকারিতা আয়োডিনের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের শরীরে আয়োডিন কম হলে থাইরয়েড গ্রন্থি বেশি কাজ করে কার্যকারিতা বজায় রাখতে গিয়ে বড়ো হয়ে যায়। তখন অস্বাভাবিক ভাবে গলা ফুলে যায়। একে গয়টার বা গলগন্ড বলে। থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে গিয়ে মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
4. আয়োডিন আমাদের শরীরে কী কী ভাবে কাজ করে?
উঃ। মস্তিষ্কের বিকাশে আয়োডিন সাহায্য করে, তাই শিশুদের পক্ষে এটি অপরিহার্য। এছাড়াও আয়োডিনের অভাবে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দেখা দিতে পারে।
5. মানুষ সুস্থ থাকার জন্য কি শুধু প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল? এ বিষয়ে আলোচনা করো।
উঃ। না। মানুষ শুধুমাত্র সুস্থ থাকার জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারেনি। এর কারণগুলি হল মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, তার জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও পুরোনো ওষুধের বিরুদ্ধে রোগসৃষ্টিকারী জীবাণুর প্রতিরোধ গড়ে ওঠা। এর ফলে আরও নতুন নতুন ওষুধ তৈরির প্রয়োজন হচ্ছে। বিজ্ঞানের নানা গবেষণার ফলাফলকে শুধু মানুষ ব্যবহার করতে পারে।
6. পলিমার চারপাশের পরিবেশ কীভাবে নষ্ট করছে?
উঃ। পরিবেশের চারদিকে পলিমারের তৈরি জিনিসপত্র ছড়িয়ে রয়েছে। পলিমারের জিনিসের কোনো ক্ষয় নেই এর ফলে তারা যেমন জলের গতিপ্রবাহ ও কৃষিকাজের উর্বরতা নষ্ট করছে তেমনি তাদের মধ্যে উপস্থিত অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন উৎসের জলের বর্ণ বা গন্ধের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। নদী বা জলাশয়ে মাছ ও অন্যান্য জলচর প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছে।
7. আমাদের চারপাশে শকুনের বিলুপ্তি ঘটার কারণ কী?
উঃ। চাষের কাজে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ও গবাদি পশুর রোগনিরাময়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ডাইক্লোফেনাক নামক বেদনানাশকের ব্যবহারের ফলে এই পশুরা পরবর্তীকালে যখন মারা যাচ্ছে তার পরবর্তী পর্যায়ের খাদক শকুনের মধ্যে গিয়ে এদের বিলুপ্তি ঘটাচ্ছে।
৪. পানের দোকানে চুনজল কীভাবে তৈরি হয়? তা কী সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করা হয়?
উঃ। দেখতে পাবে বেশ খানিকটা জলের মধ্যে পাথুরে চুন দিলেই কেমনভাবে জলটা টগবগ করে ফুটতে থাকে। একই সঙ্গে কেমন শোঁ-শোঁ করে আওয়াজ হয়। এই চুনজল কিন্তু দোকানের কাকু সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করেন না। বেশ কয়েকদিন রাখার পর তবেই তিনি তা ব্যবহার করতে পারেন।
9. বাড়ির পোষা কুকুর বিড়ালকে কখনও ঘাস খেতে দেখেছ? তারা ঘাস খায় কেন?
উঃ। হ্যাঁ দেখেছি, কুকুর, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণীরা প্রাকৃতিক বা ভেষজ উপায়ে নিজেদের সুস্থ রাখে। এদের শরীর খারাপ করলে এরা ঘাস বা গাছের পাতা খেয়ে বমি করে। ফলে এদের শরীর সুস্থ হয়ে যায়। তাই এরা ঘাস খায়।
10. যে সমস্ত ওষুধের মোড়ক আমরা ছুঁড়ে ফেলে দিই সেগুলির কী হয়?
উঃ। যেসব ওষুধের মোড়ক অথবা ছুঁড়ে ফেলে দিই সেগুলি জৈব অভঙ্গুর পলিমার। এগুলি নষ্ট হয় না ফলে এগুলি মাটিতে পড়ে থেকে মাটির পরিবেশ দূষিত করে।
11. বিভিন্ন রং ও রত্ত্বক কীভাবে মানুষের ক্ষতি করতে পারে?
উঃ। নানা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে রং ও রঞ্জক পদার্থ তৈরি করা হয়। এই পদার্থগুলি বিষাক্ত এবং মানবজীবনে ও পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে স্নায়বিক সমস্যা, বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যক্ষমতা হ্রাস, অনাক্রমতা হ্রাস প্রভৃতি হয়।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর:
1. বিভিন্ন ধাতু যেমন লোহা, ক্যালশিয়াম এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়াম ধাতুর আয়ন কী কাজে লাগে?
উঃ । আয়রন (লোহা) ঃ মানুষ সহ বিভিন্ন প্রাণীর রক্ত তৈরি করতে আয়রন খুব দরকার। রক্তের লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন ফেরাস আয়ন (Fer) ছাড়া কাজই করতে পারে না।
ক্যালশিয়াম : আমাদের দেহে হাড়ের কঙ্কাল আছে বলেই আমরা হাঁটা-চলা, দৌড়ানো, ঝুঁকে-পড়া এসবই করতে পারি। হাড়ের প্রধান উপাদান হল ক্যালশিয়ামের ফসফেট যৌগ। এছাড়াও, কোশের অনেক কাজ ক্যালশিয়াম আয়ন (Ca2+) ছাড়া অসম্ভব।
সোডিয়াম আর পটাশিয়াম : তোমায় পিঁপড়ে কামড়ালে বা সুড়সুড়ি দিলে সেই অনুভূতি তৎক্ষণাৎ সরু সুতোর মতো স্নায়ুর মধ্যে দিয়ে সুষুম্না কাণ্ডে পৌঁছে যায়। এই যে স্নায়ুর মধ্যে দিয়ে সংকেত যাওয়া-আসা এসব ঠিকঠাকভাবে তখন হবে যখন শরীরে ঠিক ঠিক মাত্রায় সোডিয়াম আয়ন (Nat) আর পটাশিয়াম আয়ন (K) থাকবে। তা না থাকলে সে কাজ হবে না। তখন মানুষ হাঁটতে গিয়ে টলে পড়ে যেতে পারে, অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে।
2. খাবার সোডা জলে মিশিয়ে তা দিয়ে লিখলে কী দেখা যাবে ?
উঃ। তোমার প্রিয় বন্ধুকে একটা গোপন নির্দেশ পাঠাতে চাও, তাহলে খাবার সোডা কিছুটা জলের মধ্যে মেশাও। আগের মতো একটা তুলি তৈরি করে একটা সাদা কাগজে লিখে ফেলো মনের কথাটা। রোদে শুকিয়ে নিলে দেখতে পাবে—সাদা কাগজ সাদাই থাকবে কোনো লেখা তাতে দেখা যাবে না। যে পড়বে তাকে অবশ্য একটা কথা আগে থেকেই শিখিয়ে রাখো যে একটা বীটের টুকরো কেটে কাগজের ওপর ঘষে নিয়ে তবে পড়তে হবে।
3. অ্যাসিড বা ক্ষারক কতটা ক্ষতিকর – আলোচনা করো।
উঃ। দেহের কোথাও অ্যাসিড বা ক্ষারকীয় পদার্থ লাগলে, বিশেষ করে চোখে বা নাকে গেলে, সেই জায়গাটা অনেকটা পরিষ্কার জল দিয়ে বারবার ধুয়ে ফেলা দরকার। রগড়ে ধোবে না বা সাবান দেবে না। তারপর পরিষ্কার কাপড় বা তুলো দিয়ে আলগা করে ঢেকে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। কেউ অ্যাসিড বা ক্ষারক খেয়ে ফেললে কোনোরকম দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দেয়াল চুনকামের সময় কাছে যাবে না। সকলকে সতর্ক করবে যে ক্ষার চোখে পড়লে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
4. জল জীবদেহ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ’—আলোচনা করো।
উঃ । জীবদেহে গঠনের গুরুত্বপূর্ণ যৌগ হল জল। মানুষের দেহে এই জলের পরিমাণ প্রায় 60 শতাংশ। জল একটি ভাল দ্রাবক। নানান জৈব ও অজৈব পদার্থ জলে দ্রবীভূত হয়। প্রাণরক্ষা করার জন্য অক্সিজেনের পরই গুরুত্বপূর্ণ হল জল। কয়েকদিন জলপান না করলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ও প্রোটিন হজম হওয়ার পর তাদের সারাংশ জলের মাধ্যমেই সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের দেহে উৎপন্ন দূষিত পদার্থগুলি জলের মাধ্যমেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। জলে দ্রবীভূত ক্যালশিয়াম আয়ন ও কার্বন ডাই অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শামুক ও ঝিনুক তাদের দেহের বাইরের শক্ত খোলাটি তৈরি করে। জলের মধ্যে গুলে যাওয়া অক্সিজেন ব্যবহার করে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীরা বেঁচে থাকে। সূর্যের আলো জলের মধ্যে চলাচল করতে পারায় জলজ উদ্ভিদরা খাদ্য তৈরি করতে পারে।
মানুষের খাদ্য
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
1. সঠিক খাদ্য না খেলে কী হতে পারে?
উঃ। ঠিকমতো খাবার না খেলে মানুষের দেহে রোগ জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে, ফলে শরীর অসুস্থ হয়।
2. খাদ্যে বিভিন্ন উপাদানের অভাব হলে কী হয়?
উঃ। রাতে কম দেখা, ঠোঁটের কোণে ও জিভে ঘা, মাড়ি ফোলা ও রক্তপাত হয়।
** কার মাধ্যমে গ্লুকোজ শরীরের বিভিন্ন অংশের শেষপ্রান্তে পৌঁছায়?
উঃ। রক্তের মাধ্যমে।
3. আমরা কী রকমের খাবার খাই?
উঃ। আমরা আমিষ ও নিরামিষ খাবার খাই।
4. ভিটামিনের উৎস কী?
উঃ। আমলকী, গাজর, ডিম, দুধ।
5. স্নেহজাতীয় বা লিপিড জাতীয় খাদ্যের উৎস কী ?
উঃ। তেল, ঘি, বাদাম, মাখন, নারকেল ইত্যাদি লিপিড জাতীয় খাদ্যের উৎস।
6. দেহ গঠনের জন্য আমরা খাদ্য থেকে কত প্রকার শর্করা ব্যবহার করি?
উঃ। দু ধরনের শর্করা ব্যবহার করি। গ্লুকোজ এবং স্টার্চ বা শ্বেতসার।
7. প্রোটিনের উৎস কী ?
উঃ । ডিম, মাছ, মাংস।
৪. প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পুষ্টিগত গুরুত্ব কী ?
উঃ। প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পুষ্টিগত গুরুত্ব হল দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, কোশ গঠন প্রভৃতি।
9. শ্বেতসার বা স্টার্চযুক্ত কয়েকটি খাদ্যের নাম লেখো।
উঃ। শ্বেতসার সমৃদ্ধ কয়েকটি খাদ্য হল আলু, চাল, আটা।
10. সয়াবিনে কোন্ খাদ্য উপাদানটি কম আছে?
উঃ। শর্করা কম আছে।
11. জলের উৎস কী ?
উঃ । সবজি, ফল ও পানীয় জল।
12. দুধে কী কী উপাদান থাকতে পারে?
উঃ। শর্করা ও প্রোটিন।
13. মাছে কোন্ কোন্ উপাদান থাকতে পারে?
উঃ। ভিটামিন, খনিজ মৌল ও লিপিড।
14. চারটি কন্দ জাতীয় খাদ্যের নাম লেখো।
উঃ। ওল, কচু, রাঙা আলু ও টোপিওকা।
15. গ্লুকোজ কাকে বলে?
উঃ। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার হজম হবার পর যখন সব থেকে ছোটো কণাতে পরিণত হয়, তাকে গ্লুকোজ বলে।
16. ডায়াবেটিস কীভাবে এড়ানো যায়?
উঃ। কায়িক পরিশ্রম বাড়িয়ে এবং সঠিক খাদ্যাভাস মেনে চলে।
17. চারটি ফুল জাতীয় খাদ্যের নাম লেখো।
উঃ। মোচা, কুমড়ো ফুল, সজনে ফুল, বক ফুল।
18. মূলজাতীয় চারটি খাদ্যের নাম লেখো।
উঃ। গাজর, মুলো, বীট, শালগম।
19. ডিমে উপস্থিত থাকে এমন একটি প্রোটিনের নাম লেখো।
উঃ। ডিমে অ্যালবুমিন নামক প্রোটিন থাকে।
20. কোন্ প্রোটিন জমে শক্ত হয়ে যায়?
উঃ। মুরগি বা হাঁসের ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোটিন দ্রবণ গরম করলে জমে শক্ত হয়ে যায়।
22. মানুষের দেহের শক্ত প্রোটিনের নাম কী?
উঃ। লিগামেন্ট ও টেনডন।
23. চুল ও নখে কী ধরনের প্রোটিন থাকে?
উঃ। কেরাটিন।
24. অস্থি ও লিগামেন্টে কী ধরনের প্রোটিন থাকে?
উঃ। কোলাজেন।
25. লোহিত রক্তকণিকায় কী ধরনের প্রোটিন থাকে?
উঃ। হিমোগ্লোবিন।
26. শরীরে অতিরিক্ত প্রোটিন জমা হলে কী সমস্যা হয়?
উঃ। অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে জমা হলে বাত, কিডনিতে স্টোন ও অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হয়।
27. পেশিতে কোন্ কোন্ প্রোটিন আছে?
উঃ। অ্যাকটিন, মায়োসিন।
28. একজন সুস্থ মানুষের তার দেহের ওজনের কেজি প্রতি কী পরিমাণ জল পান করা উচিত?
উঃ। কেজি প্রতি 50 মিলি.
29. মুরগির মাংসে লিপিড আছে কি?
উঃ হ্যাঁ। লিপিড আছে।
30. তেলে বা ফ্যাটে গুলে যায় কোন্ কোন্ ভিটামিন?
উঃ। ভিটামিন A, D, E ও K ।
31. প্রাণীরা কোথা থেকে খনিজ পদার্থগুলো সংগ্রহ করে?
উঃ। প্রাণীরা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ খাদ্য, প্রাণীজ খাদ্য ও জল থেকে খনিজ পদার্থগুলি সংগ্রহ করে।
32. জীবদেহ গঠনের প্রধান উপাদান কী?
উঃ। যে কোনো জীবদেহ গঠনের একটি প্রধান উপাদান হল জল।
33. ভিটামিন K মানুষের দেহে কোন্ কাজ করে?
উঃ। কেটে যাওয়া জায়গা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে।
34. বহু বছর আগে জাহাজের নাবিকেরা কি রোগে মারা যেত?
উঃ স্কার্ভি রোগে বা বেরিবেরি রোগে।
35. ভিটামিন থেকে কী পাওয়া যায় না ?
উঃ। ভিটামিন থেকে শর্করা, প্রোটিন বা লিপিডের মতো শক্তি পাওয়া যায় না।
36. জলে গুলে যায় কোন্ কোন্ ভিটামিন?
উঃ । ভিটামিন B-কমপ্লেক্স, ভিটামিন C
37. উদ্ভিদ কোথা থেকে খনিজ মৌল সংগ্রহ করে?
উঃ। উদ্ভিদ প্রধানত মাটি বা মাটির নীচে থাকা জল থেকে খনিজ মৌল সংগ্রহ করে।
38. খাদ্যের কোন্ উপাদান কে আমরা হজম করতে পারি না?
উঃ। খাদ্যতত্ত্ব।
39. কোন্ খনিজ মৌল অক্সিজেন পরিবহন করে?
উঃ। আয়রন।
40. কোন্ খনিজ মৌল দাঁত ও হাড় গঠন করতে সাহায্য করে?
উঃ। ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম।
41. শাকসবজি থেকে কোন্ খনিজ মৌল পাই?
উঃ। ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক।
42. পানীয় জল থেকে কোন্ খনিজ মৌল পাই?
উঃ । সোডিয়াম।
43. ডিম ও চিংড়ি থেকে কোন্ খনিজ মৌল পাই?
উঃ। ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস।
44. কোন্ খনিজ মৌলের সঙ্গে দেহের রক্তচাপ বাড়া বা কমা যুক্ত?
উঃ। সোডিয়াম।
45. আয়োডিনের অভাবে কী সমস্যা হয়?
উঃ । গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
1. খাদ্য কাকে বলে?
উঃ। যেসব কঠিন, তরল বা অর্ধতরল খাদ্যবস্তু গ্রহণ করলে জীবদেহের পুষ্টি, বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন ও ক্ষয়পূরণ হয় এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, তাদের খাদ্য বলে।
2. খাদ্য কত প্রকারের হয় এবং কী কী ?
উঃ। প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী খাদ্য প্রধানত দুই প্রকারের হয়। যেমন- (i) দেহ-পরিপোষক খাদ্য এবং (ii) দেহ সংরক্ষক খাদ্য।
3. দেহ-পরিপোষক খাদ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উঃ। যেসব খাদ্য জীবের দেহগঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে তাদের দেহ-পরিপোষক খাদ্য | বলা হয়। যেমন—শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট।
4. দেহ সংরক্ষক খাদ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উঃ। যেসব খাদ্য দেহে মূলত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এবং দেহের স্বাভাবিকতা বজায় রেখে দেহকে সুস্থ ও সবল রাখে, তাদের দেহ-সংরক্ষক খাদ্য বলা হয়। যেমন— ভিটামিন, খনিজ লবণ জল ও খাদ্যতত্ত্ব।
5. প্রোটিন কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার প্রোটিনের নাম লেখো।
উঃ। কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত যেসব জৈব যৌগের গঠনগত একক অ্যামিনো অ্যাসিড, তাদের প্রোটিন বলা হয়। বিভিন্ন প্রকার প্রোটিন হল কেরাটিন, মায়োটিন, অ্যাকটিন, হিমোগ্লোবিন, কোমাজেন ও ফাইব্রিনোজেন।
6. খাদ্যশস্য বলতে কী বোঝায় ?
উঃ। খাদ্যশস্য বলতে চাল, গম, জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা প্রভৃতি খাদ্যবস্তুকে বোঝায়। এগুলি প্রকৃতপক্ষে খাদ্যের শক্তি সরবরাহকারী উপাদান।
7. প্রাণীজ প্রোটিন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উঃ। যেসব প্রোটিন প্রাণীদেহ থেকে পাওয়া যায় তাদের প্রাণীজ প্রোটিন বলে। যেমন—মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি হল প্রাণীজ প্রোটিন।
8. স্নেহপদার্থ বা লিপিড কাকে বলে? লিপিড মানুষের কী কাজ করে ?
উঃ। কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন দিয়ে গঠিত ফ্যাটি অ্যাসিড নামক জৈব অ্যাসিড এবং অ্যালকোহল পরস্পর বিক্রিয়া করে যে যৌগ গঠন করে তাকে স্নেহপদার্থ বা লিপিড বলে। লিপিড জলে অদ্রবণীয় কিন্তু বিভিন্ন জৈব দ্রাবক যেমন ক্লোরোফর্ম, অ্যালকোহল, ইথারে দ্রবণীয়। লিপিড মানুষের শক্তির উৎস, বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা ও দেহ থেকে তাপ বেরিয়ে না যাওয়া ইত্যাদি কাজ করে।
9. অপুষ্টি দেখা দেওয়ার কয়েকটি কারণ লেখো।
উঃ। (i) খাদ্যের মধ্যে থাকা উৎপাদক উপাদানগুলির অভাব ঘটলে অপুষ্টি দেখা দেয়। (ii) শক্তি উৎপাদক নয় এমন খাদ্য উপাদান যেমন ভিটামিন ও খনিজ লবণ এর অভাবেও অপুষ্টিজনিত নানা সমস্যা দেখা দেয়। (iii) কৃমির সমস্যা থাকলেও অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।
10. পৃথিবীপৃষ্ঠে কোথায় কতটা মিষ্টি জল পাওয়া যায় ?
উঃ। পৃথিবীপৃষ্ঠের মধ্যে প্রায় 75 ভাগ জলে ঢাকা। এর, প্রায় 97% সমুদ্রের জল আর 3 ভাগ মিষ্টি জল। এই মিষ্টি জলের অংশ মেরু অঞ্চল, পর্বতশীর্ষের বরফ ও হিমবাহ রূপে সঞ্চিত রয়েছে। বাকি জল মাটির নীচে ও অন্যান্য জায়গায় নানারূপে সঞ্জিত আছে।
11. শিশুদের ক্ষেত্রে দুধকে আদর্শ খাদ্য বলা হয় কেন?
উঃ। দুধে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদানই সঠিক অনুপাতে রয়েছে। দুধ শিশুদের দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন করে এবং দেহের উন্নতা বজায় রাখে ও দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করে। দুধ শিশুদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতেও সাহায্য করে।
12. ফাইটোকেমিক্যাল বলতে কী বোঝ ?
উঃ। এটি খাদ্যের একটি উপাদান। এই উপাদান দেহের বিশেষ দরকারে আসে। আমরা এই উপাদানটি চা, পাকা আম, পাকা পেঁপে ইত্যাদি থেকে সংগ্রহ করি। এই খাদ্যগুলির বেশিরভাগই রঙিন হয়, এদের মধ্যে নানা রঙের উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক যৌগ থাকে।
13. শর্করা জাতীয় খাদ্যকে কী কী শ্রেণিতে ভাগ করা যায় ?
উঃ। শর্করা জাতীয় খাদ্য (a) মিষ্টি খাদ্যবস্তু, (b) দানাশস্য, (c) মূল ও কাণ্ড, (d) সবজি, (e) ডাল-শস্য ও (f) প্রাণীজ খাদ্যবস্তু।
14. কাজ করার শক্তি কোথা থেকে পাওয়া যায় ?
উঃ। শর্করা জাতীয় খাদ্য হজম করার পর অস্ত্রে গ্লুকোজে পরিণত হয়। রক্তের মাধ্যমে এই গ্লুকোজ শরীরের বিভিন্ন অংশের সীমানায় পৌঁছে যায়। সেখানে কোশের ভেতর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ ভেঙ্গে শক্তি তৈরি হয়। এই শক্তি নানা কাজে ব্যবহৃত হয়।
15. ডায়াবেটিস কাকে বলে? এই সমস্যা কেন হয়? কীভাবে এই সমস্যা এড়ানো যায় ?
উঃ। রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোশে প্রবেশ করতে না পারার ফলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। ফলে দেহের নানা অঙ্গে (হৃৎপিণ্ড, চোখ, বৃক্ক, পা) সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ বলে। শর্করা ম্যাকটোজ হজম করতে না পারার জন্য এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। কায়িক পরিশ্রম বাড়িয়ে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যা এড়ানো যায়।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর:
1. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে জলের প্রয়োজনীয়তা বা ভূমিকা আলোচনা করো।
উঃ। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে জলের প্রয়োজনীয়তা বা ভূমিকা অনস্বীকার্য।
i. বীজের অঙ্কুরোদগম এবং চারাগাছের বৃদ্ধিতে।
ii. উদ্ভিদদেহে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াতে খাদ্য তৈরির জন্য কাঁচামাল হিসেবে জল একান্ত প্রয়োজনীয়।
iii. মাটি থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ শোষণের জন্য উদ্ভিদের জলের প্রয়োজন হয়।
iv. উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়া পরিচালনার জন্য জলের প্রয়োজন হয়।
v. উদ্ভিদদেহে এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্কো খনিজ লবণ এবং খাদ্যবস্তু পরিবহণের জন্য জলের প্রয়োজন হয়।
vi. উদ্ভিদদেহে প্রবেশের পর জল নানাভাবে উদ্ভিদকোশে রসস্ফীতজনিত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে উদ্ভিদ দৃঢ় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
vii. বিভিন্ন প্রকার জলজ উদ্ভিদ পুকুর, ডোবা, খালবিল বা নদীর জলেই বেঁচে থাকে।
2. আমাদের দেহে জলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির বর্ণনা দাও।
উঃ। জীবনধারণের জন্য জল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য উপাদান। তাই জলের অপর নাম জীবন। আমাদের দেহে জলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি হল – i. আমাদের দেহের প্রত্যেকটি কোশের প্রোটোপ্লাজমে 60% থেকে 70% জল থাকে। তাই বলা যায় জল কোশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানরূপে কাজ করে।
ii. জল আমাদের দেহের বিভিন্ন প্রকার শারীরবৃত্তীয় কাজে সহায়তা করে।
iii. জল রক্তের উপাদান হিসেবে ফুসফুস থেকে কলাকোশে এবং কলাকোশ থেকে ফুসফুসে যথাক্রমে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিবহনে সহায়তা করে।
iv. জল আমাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
v. জল আমাদের পৌষ্টিকনালিতে খাদ্যের অপাচ্য অংশের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় থেকে মলকে নরম রাখে এবং সহজে দেহের বাইরে নিষ্কাশনে সহায়তা করে।
3. মানবদেহে শর্করাজনিত খাদ্যের অভাবজনিত লক্ষণ ও প্রতিক্রিয়াগুলি লেখো।
উঃ। i. শর্করাজাতীয় খাদ্যের অভাবে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্যের দহন ক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকে। এর ফলে দেহের রক্তে কিটোন বডি উৎপন্ন হয়, যার আধিক্যের ফলে দেহে কিটোসিস রোগ হয়।
ii. দেহে ক্লান্তি, জলাভাব ও ইলেকট্রোলাইট-এর ঘাটতি হয়।
iii. রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায় এবং এর ফলে মস্তিষ্কের কলার ক্ষতি হয়।
iv. শর্করার অভাবে প্রোটিন দেহের প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দিলেও, কলাকোশ গঠনের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে না। ফলে কোশগঠন ও ক্ষয়পূরণের কাজ ব্যাহত হয়।
4. মানবদেহে প্রোটিনের অভাবজনিত লক্ষণ ও প্রতিক্রিয়াগুলি লেখো।
উঃ। i. খাদ্যে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিলে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোটিন ক্যালোরি অপুষ্টিজনিত কোয়াশিওরকর এবং ম্যারাসমাস রোগ দেখা দেয়।
ii. দেহে প্রোটিনের ঘাটতির ফলে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। মাংসপেশির ক্ষয় এবং রক্তাল্পতা রোগ দেখা দেয়।
iii. প্রোটিনের অভাবে খাদ্য পরিপাককারী উৎসেচকের ক্ষরণ কম হয়। ফলে খাবার ভালোভাবে পাচিত না হয়ে পেটের রোগ দেখা দেয়।
iv. প্রোটিনের অভাবে দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়া ব্যাহত হয়।
5. উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে এবং প্রাণীদেহে শক্তি উৎপাদনে আলোর ভূমিকা উল্লেখ করো।
উঃ। সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে গাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার দ্বারা খাদ্য উৎপাদন করে। সূর্যের আলোর শক্তির খুব সামান্য একটা অংশ গাছ শোষণ করে। এই আলোক শক্তি আর গাছের সবুজ কণা ক্লোরোফিল এর সাহায্যেই গাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ার পরের ধাপে জল আর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের প্রয়োজন হয়। সূর্যের আলো থেকে যে শক্তি গাছ শোষণ করে তার একটা অংশকে রূপান্তরিত করে গাছ তার তৈরি করা শর্করা জাতীয় খাবারে জমা রাখে। মানুষ এবং বিভিন্ন প্রাণীরা যখন উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ করে তখন তারা খাদ্যে জমিয়ে রাখা সূর্যের ওই রূপান্তরিত শক্তিটাই গ্রহণ করে। সূর্যের ওই শক্তিটাকে ব্যবহার করেই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীরা তাদের নানা কাজের শক্তির চাহিদা পূরণ করে।
মানুষের খাদ্য
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
1.. আমরা যে খাদ্য প্রতিদিন গ্রহণ করি তার কী পরিণতি হয়?
উঃ। খাদ্যনালীতে খাদ্য হজম হয়ে শোষিত হয়। যে খাদ্য হজম হয় না তা মল হয়ে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
2. আপেলের বদলে আর কী খাওয়া যায়?
উঃ । পাকা পেয়ারা, পাকা পেঁপে।
3. মাংসের বদলে আর কী খাওয়া যায়?
উঃ। সয়াবিন, ছোলা, মটর, ডাল।
4. আয়রন টনিকের বদলে আর কী খাওয়া যায়?
উঃ। নটেশাক, কাঁচা পেয়ারা।
5. আয়রনের অভাবে কী কী রোগ হয়?
উঃ। অ্যানিমিয়া। চামচ আকৃতির নখ।
6. ভিটামিন A-এর অভাবে কী কী রোগ হয়?
উঃ। অন্ধত্ব, হাড় বেঁকে যাওয়া, চোখের মণিতে সাদা দাগ হওয়া।
7. প্রোটিন ও শক্তির অভাবে কী রোগ হয়?
উঃ। ম্যারাসমাস কোয়াশিওরকার।
8. ভিটামিন B-কমপ্লেক্স-এর অভাবে কী রোগ হয়?
উঃ। বেরিবেরি, স্নায়ুর দুর্বলতা, পাতলা পায়খানা, স্মৃতিভ্রংশ হওয়া প্রভৃতি রোগ হয়ে থাকে।
9. মানুষের স্থূলত্বের কারণ কী?
উঃ। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাদ্য গ্রহণ করা।
10. কয়েকটি প্রাকৃতিক খাদ্যের নাম করো।
উঃ। আম, জাম, পেয়ারা, শশা।
11. কয়েকটি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের নাম করো।
উঃ। জ্যাম, জেলি, আচার, রুটি, ভাত ইত্যাদি।
12. কারখানার তৈরি কয়েকটি খাদ্যের নাম করো।
উঃ। কোল্ড ড্রিঙ্কস, পপকর্ন, চিপস্।
13. আইসক্রিমে কী মিশে থাকে?
উঃ। কারাজিনাম।
14. পটাটো চিপস-এ কী মিশে থাকে?
উঃ। ট্রান্স ফ্যাট।
15. হলুদ মিষ্টি ও সস্তা বিরিয়ানিতে কী মিশে থাকে?
উঃ। মেটানিল ইয়েলো নামক ক্ষতিকারক পদার্থ মিশে থাকে।
16. BMI কী?
উঃ। BMI হল দেহের স্থূলত্ব পরিমাপক সূচক।
17. খাদ্যের প্রধান উপাদানগুলি কী কী ?
উঃ। প্রোটিন, শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, খাদ্যতত্ত্ব ও উদ্ভিদ রাসায়নিক (ফাইটোকেমিক্যাল), লিপিড, ভিটামিন, জল ও খনিজ মৌল।
18. কোন্ খনিজ মৌল রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত ?
উঃ । জিঙ্ক।
19. অনেক মানুষ দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর নানা সমস্যায় ভোগেন কেন ?
উঃ। দুগ্ধজাত খাবারে থাকা দুগ্ধ শর্করা ল্যাকটোজ হজম করতে না পারার জন্য এই সমস্যা হয়ে থাকে।
20. কোন্ কোন্ প্রাণীজ খাদ্য থেকে শর্করা পাওয়া যায়?
উঃ। মেটে, দুধ, মধু ইত্যাদি।
21. কোন্ কোন্ উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে শর্করা পাওয়া যায় ?
উঃ। আলু, গম, চাল, শাঁকালু, আখ, পাকা আম ইত্যাদি।
22. দেহ গঠনের জন্য আমরা কয় ধরনের শর্করা ব্যবহার করি ও কী কী?
উঃ। দু ধরনের। যথা— গ্লুকোজ ও স্টার্চ বা শ্বেতসার।
23. হাত-পায়ের পেশি কী কাজ করে ?
উঃ। হাত-পায়ের পেশি আমাদের সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও গমনে সাহায্য করে।
24. ফুসফুস কী কাজ করে?
উঃ ফুসফুস শ্বসনকার্য সম্পন্ন করে।
25. অস্ত্র কী কাজ করে?
উঃ অস্ত্র পাচিত খাদ্যবস্তু শোষণ করে।
26. পেটে কৃমি হলে দেহে কোন্ খনিজ মৌলের অভাব দেখা দেবে?
উঃ। দেহে লোহার অভাব দেখা দেবে।
27. প্রোটিন কী ভূমিকা পালন করে?
উঃ। প্রোটিন দেহের কলা গঠনে, ক্ষত সারাতে, পেশির সংকোচন ও শ্বাসবায়ুর পরিবহনে সাহায্য করে।
28. কোন্ কোন্ উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রোটিন পাওয়া যায় ?
উঃ। মটরশুঁটি, সিম, ডাল, গম ও সয়াবিন থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়।
29. কোন্ কোন্ প্রাণীজ উৎস থেকে প্রোটিন পাওয়া যায় ?
উঃ। মাছ, মাংস, ছানা, পনির, কাঁকড়া ও ডিম থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়।
30. দেহের কোন্ কোন্ স্থানে প্রচুর পরিমাণে লিপিড জমা থাকে?
উঃ। ঘাড়ে ও গলায়, ওপর হাতে, বুকে, পেটে ও উরুতে লিপিড জমা থাকে।
31. শরীরে বেশি লিপিড জমা হলে কী সমস্যা হয় ?
উঃ। শরীরে বেশি লিপিড জমা হলে হৃৎপিণ্ড, রক্তনালী ও যকৃতের নানা সমস্যা তৈরি হয়।
32. কোন্ কোন্ উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে লিপিড পাওয়া যায়?
উঃ। আটা, ডাল, নারকেল, জোয়ান, কাঁঠাল ইত্যাদি থেকে লিপিড পাওয়া যায়।
33. কোন্ কোন্ প্রাণীজ উৎস থেকে লিপিড পাওয়া যায় ?
উঃ। মাছের তেল, দুধ, দই, মাংস ও ডিম থেকে লিপিড পাওয়া যায়।
34. ভিটামিন A কী কাজ করে?
উঃ। ভিটামিন A চোখ, চামড়া, হাড়, দাঁত ও খাদ্যনালীর গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
35. ভিটামিন E কী কাজ করে?
উঃ। ভিটামিন E ত্বক, লোহিত রক্তকণিকা, হূৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখে।
36. কোন্ কোন্ উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে ভিটামিন পাওয়া যায়?
উঃ। পাকা আম, ডুমুর, জলপাই, ধনে পাতা, নটে শাক, তেল, ডাল ইত্যাদি থেকে।
37. কোন্ কোন্ প্রাণীজ উৎস থেকে ভিটামিন পাওয়া যায়?
উঃ। মাংস, ঘি, ছানা, কাকড়া, চিংড়ি ইত্যাদি থেকে।
38. কয়েকটি প্রয়োজনীয় খনিজ মৌলের নাম উল্লেখ করো।
উঃ। আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, আয়োডিন ও জিঙ্ক।
39. ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসের অভাবে কী সমস্যা হয় ?
উঃ। বারবার হাড় ভেঙ্গে যাওয়া, বেঁকে যাওয়া, হাড় ফুটো হওয়া ও দাঁতের সমস্যা।
40. বেশি পরিমাণে তন্তু থাকে এমন কিছু খাবারের নাম লেখো।
উঃ। সজনে ডাঁটা, বাঁধাকপি, চাল, আপেল, ওট, বীজের খোসা, ডাঁটাশাক, নটে শাক, আম ইত্যাদি।
41. মানুষের শরীরে ক্যারোটিনয়েডের ভূমিকা কী ?
উঃ। এরা মানবদেহের খুব তাড়াতাড়ি বুড়ো হয়ে যাওয়া আর্টকায়, হূৎপিন্ডের কাজ ঠিক রাখে। হাড় শক্ত রাখে এবং ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।
42. শরীর সুস্থ রাখতে কোন্ কোন্ খাদ্য উপাদান খাওয়া প্রয়োজন ?
উঃ। কার্বোহাইড্রেট প্রোটিন, লিপিড, ভিটামিন, খনিজ মৌল ও জল ।
43. জেলি কী কী দিয়ে তৈরি হয়?
উঃ । আনারস, পেয়ারা, আম, টমেটো প্রভৃতি ফল বা সবজি দিয়ে তৈরি হয়।
44. চাউমিনে ও মোমোতে কোন্ ক্ষতিকারক পদার্থ মেশানো হয়?
উঃ । আজিনোমোটো।
45. পৃথিবীতে নোনা জল ও মিষ্টি জলের পরিমাণ কত?
উঃ নোনা জল – 97% ও মিষ্টি জল-3%।
46. ভূ-পৃষ্ঠের জল কোথায় কত পরিমাণে থাকে?
উঃ হ্রদ-87%, নদী-2% ও জলাভূমি- 11%।
46. বাড়িতে কীভাবে পানীয় জল বিশুদ্ধ করা হয়?
উঃ জল অন্তত 20 মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করা, হ্যালোজেন ট্যাবলেট দিয়ে জল শোধন করা এবং ফিল্টার যন্ত্র ব্যবহার করে পানীয় জল বিশুদ্ধ করা হয়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
1. দেহে ব্যবহৃত জল আমরা কোথা থেকে পাই? একজন সুস্থ ব্যক্তির কতটা পরিমাণ জল পান করা উচিত?
উঃ। পানীয় জলের মাধ্যমে, তরমুজ, শশা, ভাত, ডাবের জল, আঙুর ইত্যাদি থেকে আমরা জল পাই। একজন সুস্থ ব্যক্তি যদি তার দেহ ওজনের কেজি প্রতি 50 মিলিলিটার জল দৈনিক পান করেন। তবেই তার দেহে সঠিক পরিমান জলের চাহিদা পূরণ হয়।
2. কোন্ কোন্ অবস্থায় দেহে জলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়?
উঃ। অনেকটা ঘাম অথবা বারবার পাতলা পায়খানা হলে এবং তৃস্না পেলে জলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
3. শিশুর অপুষ্টিজনিত সমস্যা কী করে সারানো যায়?
উঃ। নানা ধরনের পুষ্টিযুক্ত খাদ্য (যথা- গুড়, কিশমিশ, পেয়ারা, নটেশাক, আয়োডিন যুক্ত লবণ, ঢেঁকিছাটা চাল, দুধ, মাখন, কমলালেবু, ডিম, ছানা ইত্যাদি) খাওয়ানো উচিত।
4. মানুষের ওজন বেড়ে যাওয়ার ফলে কী কী সমস্যা দেখা দেয় ? কোন্ ধরনের খাদ্য খেলে স্থূলত্বের প্রবণতা রোধ করা যায় ?
উঃ। রক্ত চাপ বৃদ্ধি পাওয়া, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া, হৃৎপিণ্ডের নানা সমস্যা। তেলমশলাহীন, ফল, সবজি, রুটি, ছোটো মাছ, ফল, ডাল ও তত্ত্বযুক্ত খাদ্য খেলে স্থূলত্বের প্রবণতা রোধ করা যায়।
5. খাদ্যতন্তু কী? তত্ত্বসমৃদ্ধ খাদ্য খেলে কী উপকার হয়?
উঃ। খাদ্যতত্ত্ব এক ধরনের সেলুলোজ বা পেকটিন জাতীয় কার্বোহাইড্রেট। এটি জলে গুলতেও পারে নাও পারে। মানুষের দেহ তত্ত্ব ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করতে পারে না। তত্ত্বসমৃদ্ধ খাদ্য খেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলত্ব, অস্ত্রের ক্যানসার, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
6. কোন্ ব্যক্তিকে স্থূল বা মোটা বলে ধরা হয়?
উঃ। বয়স ও উচ্চতার তুলনায় একজন ব্যক্তির যে ওজন হওয়া উচিত তার 20% বেশি হলে সেই ব্যক্তিকে স্থূল বা মোটা বলে ধরা হয়।
7. প্রক্রিয়াজাত আর কৃত্রিম খাবার বেশি খেলে কী কী শারীরিক সমস্যা দেখা যায়?
উঃ। হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ, বৃক্ক, হাড় বা মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। শরীর ভালো রাখার জন্য হলুদ, গোলাপি বা উজ্জ্বল লাল রং মেশানো খাবার না খাওয়াই ভালো।
8. ভিটামিন কাকে বলে?
উঃ। যেজৈব পরিপোষক সাধারণ খাদ্যে স্বল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে জীবদেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাকে ভিটামিন বলে।
9. ক্যারোটিনয়েডস বা ফ্ল্যাভোনয়েডস কী কাজ করে?
উঃ। এগুলি নানা রঙের উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক যৌগ। এরা মানবদেহের খুব তাড়াতাড়ি বুড়ো হয়ে যাওয়া আটকায়।হূৎপিন্ডের কাজ ঠিকঠাক রাখে। হাড়কে শক্ত করে ও ক্যানসার-এর সম্ভাবনা কমায়।
10. কী কী কারণে অপুষ্টি দেখা দেয়?
উঃ। খাদ্যে শক্তি উৎপাদক উপাদানগুলির অভাব ঘটলে অপুষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শক্তি উৎপাদক নয় এমন খাদ্য উপদানের অভাব ঘটলেও অপুষ্টিজনিত নানা সমস্যা দেখা যায়। কৃমির সমস্যা থাকলেও অপুষ্টি হতে পারে।
পরিবেশের সংকট উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ
অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
1. 100 বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত বেড়েছে?
উঃ। গত 100 বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা 1°C বেড়েছে।
2. এক শতাব্দীর মধ্যে উন্নতম বছর কোটি?
উঃ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (NASA) জানিয়েছে 2005 সালে ছিল গত এক শতাব্দীর মধ্যে উন্নতম বছর।
3. কোন্ সালে 4 বার মরশুমি নিম্নচাপ হয়?
উঃ। 2007 সালে।
4. বায়ুমণ্ডলের Co2 এর মাত্রা কত সাল থেকে বাড়তে শুরু করেছে?
উঃ। 2006 সাল থেকে।
5. পৃথিবীর প্রায় 99% হিমবাহের অবস্থান কোন্ কোন্ মেরুতে।
উঃ। উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে।
6. গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, প্রভৃতি নদীর উৎস কী?
উঃ। হিমালয়ের বিভিন্ন হিমবাহ।
7. গঙ্গা নদীর উৎস কী?
উঃ। গঙ্গোত্রী হিমবাহ।
8. 1993 থেকে 2003 সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতল প্রতি বছরে গড়ে কতটা বেড়েছে?
উঃ। 3 মি.মি. (0.1 ইঞ্চি)।
9. 2100 সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা প্রায় কতটা বাড়তে পারে ?
উঃ। 70 সে.মি. বেড়ে যেতে পারে।
10. পৃথিবীর বৃহত্তম ব্র্যাঘ্রবাহিনীর বাস কোথায়?
উঃ। সুন্দরবন এর সুন্দরী গাছের জঙ্গল।
11. প্রবাল বা কোরাল কী?
উঃ। এটি একধরনের সামুদ্রিক প্রাণী।
12. প্রবালের ব্যবহার হয় কীভাবে?
উঃ শৌখিন দ্রব্য ও গয়না হিসাবে।
13. কোন্ সালে পৃথিবীর প্রায় 16% প্রবাল সম্পদ নষ্ট হয়ে গেছে?
উঃ। 1988 সালে।
14. সুন্দরবন অঞ্চলে কত মানুষ বসবাস করে?
উঃ। প্রায় 40 লক্ষ ।
15. জীববৈচিত্র্য কী ?
উঃ। কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সব ধরনের উদ্ভিদ, প্রাণী আর জীবাণুর বৈচিত্র্য নিয়েই জীবনের বৈচিত্র্য, যাকে এক কথায় জীববৈচিত্র্য বলে।
16. ভারতীয় ভূখণ্ডের আয়তন কত?
উঃ । 33 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার।
17. বরফ গলে যাওয়ার ফলে কোন্ কোন্ প্রাণী বিপন্ন হচ্ছে?
উঃ। মেরু ভালুক, এম্পারার, পেঙ্গুইন, মেরু শিয়াল ইত্যাদি।
18. অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালা ভালুক কী খাবার খায়?
উঃ ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা।
19. গত 500 বছরে কতগুলি প্রজাতি পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে?
উঃ 784 টি।
20. বর্তমানে সারা পৃথিবীতে কটি প্রজাতি ধ্বংসের মুখে?
উঃ। প্রায় 13500 টি প্রজাতি।
21. যে সমস্ত প্রাণী পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যেতে পারে তাদের মধ্যে কয়েকটির নাম লেখো।
উঃ বাংলার শকুন, বাঘ, একশৃঙ্গ গন্ডার, ওরাং ওটাং, চিতা, শিম্পাঞ্জি, গঙ্গার শুশুক ইত্যাদি।
22. ভারতবর্ষকে কী ধরনের জীববৈচিত্র্যের দেশ বলা হয় ?
উঃ। ভারতবর্ষের জীববৈচিত্র্য এত বেশি যে ভারতকে অতিবৈচিত্র্যের দেশ বা মেগাডাইভারসিটি নেশন বলা হয়।
23. ভারত ছাড়া আরো কয়েকটি অতিবৈচিত্র্যের দেশের নাম লেখো।
উঃ। ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার, ইকুয়েডর প্রভৃতি।
24. সাইবেরিয়ার বাঘের অস্তিত্ব সংকটের কারণ কী?
উঃ। সাইবেরিয়ার বাঘের অস্তিত্ব সংকটের অন্যতম কারণ হল তাদের বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
25. পৃথিবীর মোট জীবের প্রায় কত শতাংশ উদ্ভিদ?
উঃ 99%
26. বাতাস ভাঙা কয়েকটি গাছের নাম বলো।
উঃ সুন্দরী, গরান, কেয়া, ঝাউ ইত্যাদি।
27. কোন্ কোন্ গাছ ধুলোকণা শুষে নিতে পারে ?
উঃ কদম বেল শিরীয কৃষ্ণচূড়া, গুলমোহর।
28. পরিবেশের সবরকম জৈব ও অজৈব উপাদানের ভাণ্ডার কী?
উঃ সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য।
29. গাছ শব্দের এই তীব্রতাটাকে কোনোভাবে কমাতে পারে কী ?
উঃ। শব্দকে জব্দ করতে পারে বেল, ছাতিম ও জারুলের মতো গাছ। বনের গভীরতা যত বাড়ে শব্দের প্রাবল্য তত কমে।
30. অরণ্য ধ্বংস হলে মানুষ কী পাবে?
উঃ অরণ্য ধ্বংস হলে মানুষ শুধু কাঠ পাবে।
31. নদীর গর্ভে পলি জমলে কী হয়?
উঃ নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমতে থাকে।
32. মাটির ওপর ঘাসের মোটা চাদর না থাকলে কী হবে?
উঃ (i) জলেভেজা মাটির স্তর ওপরে উঠে আসে। (ii) বৃষ্টির জল মাটিতে পড়লেই আলগা মাটি ধুয়ে নদীতে চলে যায়।
33. সবধরনের উদ্ভিদ কি সমানভাবে Co2 শোষণ করে?
উঃ না, সবধরনের উদ্ভিদের Co, শোষণ ক্ষমতা সমান নয়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
1. কবে ও কেন অমরনাথ গুহার বরফ গলে গিয়েছিল?
উঃ। গত 5 হাজার বছর ধরে মে মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত কাশ্মীরের অমরনাথের গুহায় জমা বরফের দৈর্ঘ্য থাকত প্রায় 12 ফুট (3.6 মিটার)। অথচ 2007-এ জুন মাসের শেষেই উয়তার ফলে অমরনাথের ওই জমা বরফ গলে 4-5 ফুট (1.2-1.5 মিটার) উচ্চতার হয়েছিল।
2. উত্তরাখণ্ডে কবে বন্যা হয়েছিল? এতে কী ঘটেছিল?
উঃ। উত্তরাখণ্ডে 2013 সালের মেঘভাঙা বৃষ্টি থেকে বিধ্বংসী বন্যায় কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছেন। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। বাড়িঘর আর অন্যান্য সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
3. মানুষের কাজের ফলে সৃষ্টি হওয়া গ্যাসগুলির মধ্যে অন্যতম কোনটি? এটি কীভাবে পরিবেশে বৃদ্ধি পেয়েছে?
উঃ। মানুষের বিভিন্ন কাজের ফলে সৃষ্টি হওয়া গ্যাসগুলির মধ্যে অন্যতম হল কার্বন ডাই অক্সাইড। 1970 থেকে 2014 সালের মধ্যে প্রতি বছর পরিবেশে এই গ্যাসের মেশার হার প্রায় 40 শতাংশ বেড়ে গেছে।
4. প্রবাল কী ?
উঃ। প্রবাল বা কোরাল হল একধরনের সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এরা নিডারিয়া পর্বভুক্ত। এরা একসঙ্গে দল বেঁধে কলোনি তৈরি করে বাস করে। প্রবালরা নিজেদের দেহের বাইরে ক্যালশিয়াম কার্বনেট-এর একটা বহিঃকঙ্কাল তৈরি করে এই বহিঃকঙ্কাল এদের দেহকে রক্ষা করে। মৃত প্রবালের সাদা বা রঙিন কঙ্কালের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে হয়। শৌখিন দ্রব্য ও গয়না হিসেবে এদের কদর পৃথিবীব্যাপী।
5. প্রবাল প্রাচীর কী?
উঃ। একসঙ্গে বাস করা অনেক প্রবালের দেহের বাইরে থাকা ক্যালশিয়াম কার্বনেটের বহিঃকঙ্কাল একটা শক্ত প্রাচীরের মতো গঠন তৈরি করে। এটাই প্রবাল প্রাচীর।
6. প্রবাল প্রাচীরের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উঃ। পৃথিবীর সমুদ্রতলের মাত্র 0.1% দখল করে থাকা প্রবাল প্রাচীর প্রায় 25% সামুদ্রিক প্রজাতির আশ্রয়স্থল। মাছ, মোলাস্কা, ইকাইনোডারমাটা, স্পঞ্জ, ক্রাস্টোশিয়া, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রাণী প্রবাল প্রাচীরে বাস করে। জীববৈচিত্র্যের নিরিখে প্রবাল প্রাচীরের গুরুত্ব অপরিসীম। সমুদ্রের জলের উয়তার সামান্যতম তারতম্য প্রবাল প্রাচীরের স্থায়িত্বের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
7. প্রবাল দ্বীপ কী ?
উঃ। মৃত প্রবাল আর অন্যান্য জৈব বস্তুর সাহায্যে সাধারণত প্রবাল প্রাচীরের অংশ হিসাবে প্রবাল দ্বীপ তৈরি হয়। ক্রান্তীয় আর উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে সাধারণত প্রবাল দ্বীপ দেখা যায়। প্রবাল দ্বীপগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক মিটার উঁচু হয়ে জেগে থাকে। উপকূলীয় নারকেল গাছের সারি আর সাদা প্রবালের বালি দিয়ে ঘেরা থাকে অগভীর সমুদ্রের প্রবাল দ্বীপ।
8. অবৈধ শিকার বা চোরাশিকার কীভাবে প্রাণীদের অস্তিত্ব বিপন্ন করছে?
উঃ। চোরাশিকারিদের লোভ বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে বন্য জন্তুর হাড়, চামড়া প্রভৃতি ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া দাঁত, চামড়া বা শিং প্রভৃতির লোভেও চোরাশিকারিদের হাতে বিভিন্ন প্রাণী প্রাণ হারায়।
9. শস্যভূক পাখিরা কেন হারিয়ে যাচ্ছে?
উঃ। চাষের জমিতে যথেচ্ছ কীটনাশক অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারের ফলে বেশ কিছু শস্যভূক পাখির মৃত্যু ঘটছে। পরিবেশ থেকে তারা হারিয়ে যাচ্ছে।
10. গঙ্গার শুশুক কীভাবে বিপন্ন হচ্ছে?
উঃ। শিল্প আর কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়া বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ গঙ্গায় এসে মিশছে। ফলে গঙ্গায় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে গঙ্গার শুশুকের অস্তিত্বও বিপন্ন হচ্ছে।
11. অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ব্যবহার কীভাবে জীবের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তোলে?
উঃ। কোনো বিশেষ স্থানীয় জীবের অর্থকরী গুরুত্ব যদি খুব বেশি হয় তবে তা অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সেইসব জীবের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে। হিমালয়ের কস্তুরী মৃগ থেকে পাওয়া যায় মৃগনাভি। মৃগনাভি থেকে তৈরি হয় নানা সুগন্ধি দ্রব্য। মানুষের সুগন্ধি দ্রব্যের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে এই প্রাণীর জীবন ও অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে।
12. বর্তমান মেরু ভালুকের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন কেন ?
উঃ। উত্তর মেরুর বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চলে মেরু ভালুক দেখা যায়। বিশ্ব উন্নায়নের ফলে বর্তমানে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে এর ফলে মেরু ভালুকের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
13. বিগত বছরগুলিতে পৃথিবীতে কী হারে জীব বৈচিত্র্য হ্রাস হয়েছে?
উঃ। বিগত 500 বছরে 784 টি প্রজাতি পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এদের মধ্যে রয়েছে 338 টি মেরুদণ্ডী প্রজাতি, 359 টি অমেরুদণ্ডী প্রজাতি ও 87 টি উদ্ভিদ প্রজাতি প্রায় 27 টি প্রজাতির প্রাণী যা গত 20 বছরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
14. গ্রামবাংলায় স্থানীয় মাছেদের অস্তিত্ব কীভাবে বিপন্ন হয়েছে?
উঃ। আফ্রিকা থেকে তেলাপিয়া ও বিশাল মাগুর জাতের মাছ গ্রামবাংলার জলাভূমিতে ছেড়ে দেওয়ার ফলে মৌরলা, পুঁটি, খলসে প্রভৃতি স্থানীয় মাছেদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়েছে।
15. গরমের দিনে বটগাছের নীচে দাঁড়ালে ঠান্ডা বোধ হয় কেন ?
উঃ বটগাছ তার ডালপালা ও পাতার ছাউনি দিয়ে ছাতার মতো কাজ করে। এছাড়া বাষ্পমোচনের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহ থেকে জল জলীয় বাষ্প রূপে পরিবেশে নির্গত হয় ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে তাপ শোষিত হয় এবং আশপাশের পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায়।
16. সমুদ্রের ঝোড়ো হাওয়া সুন্দরবনের কোনো বড়ো ধরনের ক্ষতি করতে পারে না কেন ?
উঃ সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বাদাবনের গরান, হেঁতাল, সুন্দরী প্রভৃতি গাছ প্রকৃতির ঝোড়ো বাতাস ধাক্কা খায় এবং তার বেগ কমে যায়। এই ম্যানগ্রোভ অরণ্য ঝড়ের বেগ 60-80% কমিয়ে দেয় ফলে সুন্দরবনের কোনো বড়ো ক্ষতি হতে পারে না।
17. এমন তিনটি গাছের পাতার নাম লেখো যাদের পাতা বেশি দূষক পদার্থ ধারণ করতে পারে-এর কারণ কী ?
উঃ বট, আম, অশ্বত্থ। এর কারণ হলো এইসব গাছের পাতাগুলি চওড়া ও লম্বাটে হওয়ায় এরা বেশি পরিমাণ দূষক পদার্থকে আটকে রাখতে পারে।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর:
1. পৃথিবীর হিমবাহগুলি সম্পর্কে কী জানা যায় ?
উঃ। হিমবাহকে বরফের জমাটবাঁধা নদী বলা যেতে পারে। কারণ পৃথিবীর মিষ্টিজলের বৃহত্তম ভাণ্ডার হল এই হিমবাহগুলো। এই হিমবাহগুলোর বরফগলা জলে পুষ্ট হয় বিভিন্ন নদনদী। পৃথিবীর প্রায় 99% হিমবাহের অবস্থান উত্তর আর দক্ষিণমেরুতে। হিমবাহ পর্বতমালাতেও আছে অনেকগুলো হিমবাহ রয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম হল গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, জেমু। গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদীর উৎস হল হিমালয়ের বিভিন্ন হিমবাহ। হিমবাহের বরফগলা জলেই এরা পুষ্ট হয়। হিমালয় এশিয়ার নয়টি বড়ো বড়ো নদীকে পুষ্ট করে। এর ফলে প্রায় 120 কোটি মানুষের জলের বন্দোবস্ত হয়।
2. হিমবাহ কীভাবে গলে যাচ্ছে?
উঃ। বৃষ্টিপাত, বায়ুর উয়তা প্রভৃতি আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তন পৃথিবীর হিমবাহগুলোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। পৃথিবীর গড় উয়তা বেড়ে গেলে হিমবাহগুলোর বরফ বেশি মাত্রায় গলতে আরম্ভ করবে। গঙ্গা নদীর উৎস গঙ্গোত্রী হিমবাহ প্রতি বছর একটু একটু করে ছোটো হয়ে আসছে। উত্তরমেরুর সংলগ্ন আলাস্কা উপকূলে যে বরফের স্তর রয়েছে, তা গত 30 বছরে 40% কমে গিয়ে পাতলা হয়ে গেছে।
3. হিমবাহগুলো গলে গেলে পৃথিবীর পরিস্থিতি কী রূপ হতে পারে ?
উঃ।1993 থেকে 2005 সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতল প্রতি বছর গড়ে বেড়েছে (0.1 ইঞ্চি)।পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের হিমবাহগুলো গলে যাওয়ার প্রভাব পড়বে সমুদ্রের জলতলের ওপর। এই বিষয়ে একটি গবেষণা বলছে যে 2100 সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা প্রায় 70 সে.মি. বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের জলতল বেড়ে গেলে উপকূল অঞ্চলে বন্যার সম্ভাবনা দেখা দেবে। উপকূল অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়বে। প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতিরও সম্ভাবনা দেখা দেবে। সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সারা পৃথিবীতে সমুদ্রের উপকূলে বাস করা অসংখ্য মানুষ। ভারত ও বাংলাদেশের অন্তর্গত সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও আজ এই বিপদের সম্মুখীন। পৃথিবীর বৃহত্তম ব্যাঘ্রবাহিনীর আবাস এই সুন্দরীগাছের জঙ্গল। আর এই অঞ্চলে বাস করে প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষ। এদের সকলেরই অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে। উন্নায়নের ফলে হিমবাহ পুরো গলে গেলে ভবিষ্যতের ওই হিমবাহের জলে পুষ্ট নদ-নদীর জল প্রথমে বেড়ে যাওয়ার ও পরে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। প্রথমে বন্যা আর পরে দেখা দিতে পারে তীব্র জলসংকট। হিমবাহ প্রায় 80 শতাংশ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত করে আর প্রায় 20 শতাংশ শোষণ করে। হিমবাহ সম্পূর্ণ গলে গেলে ওই 80 শতাংশ সূর্যরশ্মি ভূভাগ দ্বারা শোষিত হয়ে পৃথিবীর উয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
4. পরিবেশে নতুন জীবদের আগমন কীভাবে স্থানীয় প্রাণীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কারণ হয়ে ওঠে?
উঃ। বাইরে থেকে আসা নতুন প্রাণী অনেক সময় স্থানীয় প্রাণীদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কারণ হয়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীতে গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের বাইরে থেকে কুকুর, শুয়োর ও ছাগল নিয়ে আসা হয়েছিল। এই ছাগলরা কচ্ছপের খাবার ঘাসপাতা খেত এবং কুকুর, শুয়োর কচ্ছপের ডিম খেয়ে নিত, ফলে একসময় কচ্ছপের সংখ্যা কমে গেল। গ্রাম বাংলার জলাভূমিতে আফ্রিকা থেকে তেলাপিয়া ও বিশাল জাতের মাগুর মাছ এনে ছাড়ার ফলে মৌরলা, পুঁটি, খলসের মতো স্থানীয় মাছদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়েছে।
5. জীববৈচিত্র্য কাকে বলে ?
উঃ। কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সব ধরনের উদ্ভিদ, প্রাণী আর জীবাণুর বৈচিত্র্য নিয়েই জীবনের বৈচিত্র্য, যাকে এককথায় জীববৈচিত্র্য বলা হয়। সমস্ত সৌরজগতে পৃথিবীতেই কোনো একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে থাকা বিভিন্ন জীব প্রজাতি ও একেকটি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য একেক রকম। যেমন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হিমালয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য থেকে একদম আলাদা। আবার, আমাদের ভারতবর্ষের জীববৈচিত্র্য, ইংল্যান্ডের বা ব্রাজিলের জীববৈচিত্র্য থেকে অনেক আলাদা।
6. জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল বা বায়োডাইভারসিটি হটস্পট (Biodiversity Hot spot) সম্পর্কে কী জানা যায় ?
উঃ। পৃথিবীতে এরকম বহু অঞ্চল আছে যেখানে খুব বেশি সংখ্যক প্রজাতির জীব পাওয়া যায়। আবার সেইরকম অঞ্চলে এমন সব প্রজাতির জীবও পাওয়া যায় যা, অন্য আরও কোথাও পাওয়া যায় না। সেরকম অঞ্চলকে বলা হয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ইংরেজিতে একে বলে বায়োডাইভারসিটি হটস্পট (Biodiversity Hot spot)। পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকটা বায়োডাইভারসিটি হটস্পট খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর বায়োডাইভারসিটি হটস্পটগুলোর মধ্যে চারটি বায়োডাইভারসিটি হটস্পট হল :
(i) পূর্ব হিমালয় (Eastern Himalayas) : সিকিম, দার্জিলিং, ডুয়ার্স, তরাই অঞ্চল।
(ii) পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং শ্রীলঙ্কা (Western Ghat and Srilanka) : ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূল বরাবর ঘন অরণ্যে ঢাকা পাহাড়ি অঞ্চল।
(iii) ইন্দো-বার্মা (Indo Burma) : উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যসমূহ (যেমন – মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ)। (4) সুন্দাল্যান্ড (Sundaland) : ভারতের আন্দামান-নিকোবর অঞ্চল।
আমাদের ভারতবর্ষের জীববৈচিত্র্য এত বেশি যে ভারতবর্ষকে একটি অতি বৈচিত্র্যের দেশ বা মেগাডাইভারসিটি নেশন (Megadiversity Nation) বলা হয়। পৃথিবীতে এরকম আরও কয়েকটি দেশ আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার, ইকুয়েডর ইত্যাদি।
7. ভারতবর্ষকে মেগাডাইভারসিটি নেশান (Megadiversity Nation) বা অতি বৈচিত্র্যের দেশ বলার কারণ কী ?
উঃ। আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্যের সম্ভার বিপুল। পৃথিবীর সতেরোটি অতি জীববৈচিত্র্য সম্পন্ন (Mega Biodiversity) দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম। এ পর্যন্ত প্রায় 91,212 প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পোকামাকড়, শামুক, কেঁচো ইত্যাদির (পৃথিবীর মোট প্রাণী প্রজাতির 7.43%) খোঁজ আমাদের দেশে পাওয়া গেছে। ভারতীয় ভূখণ্ডের আয়তন 33 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার, যাদের মধ্যে প্রায় 19.7% বা প্ৰায় অংশ এলাকা অরণ্যে ঢাকা। সারা বিশ্বের উদ্ভিদজগতের সাত শতাংশ (7%) আর প্রাণী জগতের সাড়ে ছয় শতাংশের (6.5%) বাসভূমি এই ভারতবর্ষ। এছাড়াও আছে কয়েক হাজার জাতের দেশি ধান ও অন্যান্য ফসল, কয়েকশো জাতের দেশি গবাদিপশু। এরা সবাই আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
8. গাছ ও প্রাণীর নির্ভরশীলতা বিষয়ে আলোচনা করো।
উঃ। পৃথিবীতে মোট জীবের প্রায় 99% হল উদ্ভিদ। আর মাত্র 1% হল প্রাণী। সবুজ গাছপালা যে খাদ্য তৈরি করে তার 10-20% শক্তি প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখতে ব্যয় হয়। অরণ্য যদি কমতে থাকে তাহলে এসব প্রাণীর বেঁচে থাকার শক্তিতেই টান পড়বে। আজকের পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ জাতের উদ্ভিদবৈচিত্র্য দেখা যায়। আর প্রাণীবৈচিত্র্য হল প্রায় দশ লাখের মতো। এর মধ্যে প্রায় সাত লাখ প্রাণীর খাদ্য হল গাছপালার নানা অংশ বা সম্পূর্ণ গাছ।
9. গাছ কীভাবে নদীর জন্ম দেয় ?
উঃ। গাছ থেকে এত জল বাষ্পীভূত হয় যে এসব অরণ্যে সারা বছরই নাকি বৃষ্টি হয়। অরণ্যের গাছপালার ঘন আবরণ জলীয় বাষ্পকে উবে যেতে দেয় না। সেই বাষ্প ঘন হয়ে জমে ফোঁটা ফোটা জল হয়ে মাটিতে পড়ে। তারপর চুঁইয়ে চুইয়ে মিশে জলের সোঁতা তৈরি করে। সোঁতাগুলো মিলতে মিলতে একসময় নদীর জন্ম হয়। বর্ষার জলও নানা ঢাল বেয়ে নেমে একসঙ্গে মিলে নদীর জন্ম দেয়। হিমালয়ের বরফগলা জলে জন্ম নেওয়া নদীরা বাদে ভারতবর্ষের আর সব নদীর-ই জন্ম কিন্তু এভাবে। পর্বতের ঢাল যদি অরণ্যের ছায়ায় ঢাকা না থাকে তাহলে সেই জলও তাড়াতাড়ি উবে যায় বাষ্প হয়ে। জলকে বাষ্প হতে না দিয়ে মাটির ছিদ্র দিয়ে চুঁইয়ে চুইয়ে মাটির তলায় ওই জলকে জমতে সাহায্য করে অরণ্য। কুয়ো খুঁড়ে বা টিউবওয়েল বসিয়ে আমরা সেই জল পাই। জঙ্গলে যদি লম্বা আর বড়ো পাতাযুক্ত গাছ বেশি থাকে, তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে, জল বিশুদ্ধ থাকে এবং জলের প্রবাহও নিয়ন্ত্রিত হয়।
10. সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য বাঁচিয়ে রাখা জরুরি কেন?
উঃ। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য পরিবেশের সবরকম জৈব ও অজৈব উপাদানের ভাণ্ডার। এরা উপকূলবর্তী অঞ্চলকে বছরের পর বছর ধরে উর্বর রেখেছে। একটা পরিণত ম্যানগ্রোভ গাছ বছরে প্রতি এক হেক্টর জমিতে 47 কেজি নাইট্রোজেন, 26 কেজি পটাশিয়াম, 99 কেজি ক্যালশিয়াম, 34 কেজি ম্যাগনেশিয়াম আর 32 কেজি সোডিয়াম সরবরাহ করে। এজন্য এদের বাঁচিয়ে রাখা খুব জরুরি। গাছ তথা অরণ্য ধ্বংস করলে মানুষ শুধু কাঠ পায়। কিন্তু তার ফলে পরিবেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।
11. খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল বলতে কী বোঝ ?
উঃ। অরণ্যে সূর্যের আলো ব্যবহার করে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে এবং তা তারা নানা অঙ্গে সঞ্জয় করে। এই সম্ভিত খাদ্য নানা প্রাণী ব্যবহার করে। তাই অরণ্যের উদ্ভিদরা হল উৎপাদক আর প্রাণীরা হল খাদক। খাদ্য খাদকের এই সম্পর্ককে খাদ্যশৃঙ্খল বলা হয়। একটা খাদ্যশৃঙ্খল অপর খাদ্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খাদ্যজাল তৈরি করে।
12. বায়ুমণ্ডল ও গাছের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা করো।
উঃ। বায়ুমণ্ডল ও গাছের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর। গাছের সবুজপাতার পত্ররন্ধ্র সূর্যের আলো পেলে খুলে যাওয়ায় তা দিয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রবেশ করে। সূর্যের আলো, জল আর কার্বন ডাই অক্সাইড কাজে লাগিয়ে গাছ নিজে খাদ্য তৈরি করে পুষ্ট হয়। আজ থেকে প্রায় 350 কোটি বছর আগে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম ছিল। আনুমানিক 250 কোটি বছর আগে প্রথমে কিছু অণুজীব সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করতে শুরু করে। আরো অনেক পরে গাছ সালোকসংশ্লেষ দ্বারা প্রচুর O, গ্যাস ছাড়তে শুরু করে। সালোকসংশ্লেষের সময় অণুজীবও গাছেরা শোষণ করতে শুরু করল কার্বন ডাই অক্সাইড CO, । এতে বাতাসের উপাদানের পরিমাণ ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল। তবে সব ধরনের উদ্ভিদের শোষণ ক্ষমতা সমান নয়।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য
অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর;
1. এক লিটার পানীয় জলে কত পরিমাণ ফ্লুওরাইড থাকলে দাঁত ও হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়?
উঃ। 1.5 মিলিগ্রামের বেশি হলে।
2. এক লিটার জলে কী পরিমাণ আর্সেনিক থাকলে সেই জল খাওয়া উচিৎ নয়?
উঃ। 0.05 মিলিগ্রাম বা তার বেশি।
3. স্বাস্থ্য বলতে কী বোঝায়?
উঃ । স্বাস্থ্য বলতে দৈহিক মানসিক এবং সামাজিক সুস্থতাকে বোঝায় ।
4. মানুষের পেশাগত রোগের কারণ কী?
উঃ। কর্মস্থলের ওপর ভৌত ও রাসায়নিক পরিবেশের প্রভাবে পেশাগত রোগ হয়।
5. রেগে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর করা কী ধরনের সমস্যা?
উঃ। মনোযোগহীনতা।
6. পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব কী ধরনের সমস্যা?
উঃ। পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া।
7. সবসময় অসহায় বোধ করা কী ধরনের সমস্যা?
উঃ। মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেসন।
8. স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য কী প্রয়োজন?
উঃ । রোগপ্রতিরোধ করা।
9. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কার অধীন?
উঃ। রাষ্ট্রসংঘের অধীন।
10. যে সকল বস্তুর দ্বারা অ্যালার্জি হয়, তাকে কী বলে? দুটি অ্যালার্জেনের নাম লেখো।
উঃ। অ্যালার্জেন। ডিম, ধুলো।
11. কলেরা রোগের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি কাদের?
উঃ। শিশু ও বয়স্কদের।
12. ম্যালেরিয়া রোগটি কে ছড়ায় ? এই রোগের জীবাণুর নাম কী?
উঃ। অ্যানোফেলিস মশকি। প্লাসমোডিয়াম ভাইভাক্স।
13. এই জীবাণু মানুষের দেহে কোথায় থাকে?
উঃ। লোহিত রক্তকণিকার মধ্যে থাকে।
14. কে প্রথম মানুষের রক্তে ম্যালেরিয়ার জীবাণু খুঁজে পান ?
উঃ। 1880 খ্রিস্টাব্দে ডাক্তার চার্লস লুই আলফাসো লাভেয়া।
15. প্লেগ রোগের বাহক কে?
উঃ। প্লেগের অন্যতম বাহক মেঠ কালো ইঁদুর, এদের চামড়ায় বাসা বাঁধা একধরনের উকুনের পাকস্থলীতে প্লেগের জীবাণু আশ্রয় নেয়।
16. স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার পাকস্থলীতে কে ম্যালেরিয়ার জীবাণুর সন্ধান পান?
উঃ। রোনাল্ড রস।
17. মশার দাঁত ও জিভের নাম কী?
উঃ । দাঁত হল ম্যান্ডিবল আর জিভ হল ম্যাক্সিলা।
18. এডিস মশা কী রোগ ছড়ায়?
উঃ। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া।
19. সাধারণ মাছি কী রোগ ছড়ায়?
উঃ। টাইফয়েড ও ডায়ারিয়া।
20. বালি মাছি কী রোগ ছড়ায়?
উঃ। কালাজ্বর ও বালিমাছি জ্বর।
21. সাধারণ মাছি রোগ জীবাণু বয়ে নিয়ে যায় বলে তাকে কী বলে?
উঃ। তাকে যান্ত্রিক বাহক বলে।
22. মশা তার দেহে রোগজীবাণুর বংশ বৃদ্ধি করে বলে তাকে কী বলে?
উঃ। তাকে জৈব বাহক বলে।
23. দই এবং দুগ্ধজাত খাবার তৈরিতে কোন্ ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নেওয়া হয়?
উঃ। ল্যাকটোব্যাসিলাস।
24. জীবনদায়ী ঔষধ কোন্ ব্যাকটিরিয়া দ্বারা প্রস্তুত করা হয়?
উঃ। স্ট্রেপটোমাইসেস।
25. মানুষের অস্ত্রে বসবাসকারী কিছু ব্যাকটেরিয়া কী তৈরি করে?
উঃ। ভিটামিন B12.
26. কী ধরনের খাবারে ব্যাকটেরিয়া সহজে জন্মায়?
উঃ। প্রোটিন জাতীয় খাবারে।
27. একটি উপকারী ছত্রাকের নাম করো। ওই ছত্রাক কী তৈরি করে ?
উঃ। পেনিসিলিয়াম। অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ তৈরি করে।
28. অণুজীব ছাড়া আর অন্য কী কারণে খাবার নষ্ট হয়ে যায়?
উঃ। উৎসেচকের ক্রিয়ার কারণে।
29. বিভিন্ন পশুর শরীরে কী ধরনের প্রাণী বাস করে? এদের কী বলে?
উঃ। কৃমি। এদের পরজীবী বলে।
30. গোরুর শরীরে পরজীবীর প্রকৃতি কী?
উঃ। ফিতাকৃমি।
31. শুয়োরের পরজীবীর প্রকৃতি কী?
উঃ। ফিতাকৃমি ও গোলকৃমি।
32. পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়া কে আবিষ্কার করেন।
উঃ। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন।
33. সম্ভার খাবারে মেশানো বেশিরভাগ রং কোথা থেকে আসে?
উঃ। আলকাতরার মতো জিনিস থেকে।
34. ভেজাল সরষের তেল থেকে কোন রোগ হয়? ভারতবর্ষে এই রোগ কোন্ কোন্ সালে হয় ?
উঃ। ড্রপসি। 1998, 2000, 2002, 2005
35. দীর্ঘদিন ধরে খেসারির ডাল খেলে কী রোগ দেখা দেয়?
উঃ । ল্যাথিরিজম।
36. কয়েকটি কৃত্রিম রং এর নাম লেখো।
উঃ। মেটানিল ইয়োলো, ম্যালাকাইট গ্রিন।
37. কয়েকটি ভৌত ও রাসায়নিক প্রভাবকের নাম লেখো।
উঃ। আলো, এক্স রশ্মি, তামা, কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, সোডিয়াম ইত্যাদি।
38. মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণ কী ?
উঃ। হতাশা ও অবসাদ, নিজের কাজ করতে না পারা, ডান-বাম চিনতে না পারা ইত্যাদি।
39. মানসিক সমস্যার কারণ জন্মগত ত্রুটি—বলতে কী বোঝ?
উঃ। গর্ভাবস্থায় অপুষ্টি, বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ, জন্মের পর শিশুর মন ও বুদ্ধির বিকাশকে ব্যাহত করে।
40. রোগ প্রতিরোধ এর ধাপগুলি কী কী?
উঃ। (i) টিকাকরণ কর্মসূচি। খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যোগ করা। (ii) রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা। (iii) ভিন্ন দক্ষতা সম্পন্ন মানুষের পুর্নবাসন (iv) জীবনকুশলতা শিক্ষা।
41. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাজ কী?
উঃ। মানবসম্পদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করা।
42. কোন্ সালে এই সংস্থা স্থাপিত হয়?
উঃ 1949 সালে 9 ই এপ্রিল।
43. UNICEF-এর কাজ কী?
উঃ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা।
44. বসন্ত রোগ কীভাবে পৃথিবী থেকে কত সালে নির্মূল করা হয়?
উঃ। টিকাদানের মাধ্যমে 1977 সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে বসন্তরোগ নির্মূল করা হয়।
45. বায়ুর মাধ্যমে কীভাবে সর্দি-কাশি ছড়ায়?
উঃ। হাঁচি বা কাশির সময় রোগ জীবাণু ভরা তরল কণা সুস্থ লোকের নাক ও মুখ দিয়ে প্রবেশে করে।
46. বায়ুবাহিত রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা কীভাবে বাড়িয়ে দেয়?
উঃ। এক জায়গায় বহু লোকের একসঙ্গে উপস্থিতি।
47. যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ কী?
উঃ। টানা জ্বর, কাশি ও থুতুর সঙ্গে রক্ত পড়া।
48. ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণ কী?
উঃ। হাঁচি ও কাশি, জ্বর, গা, হাত ও পায়ে ব্যথা।
49. মশার মুখের বিভিন্ন অংশের নামগুলি কী ?
উঃ। লেবিয়াম, ম্যান্ডিবল, ম্যাক্সিলা, হাইপোফ্যারিংস ও ল্যাব্রাম।
50. ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট কয়েকটি রোগের নাম লেখো।
উঃ। স্যালমোনেলোসিস, খাবারে বিষক্রিয়া, বটুলিজম ও ক্যাম্পাইলোব্যাকটেরিওসিস।
51. জীবাণু-সংক্রামিত খাবার খাওয়ার 2-3 ঘণ্টার মধ্যে কী কী লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় ?
উঃ। বমিভাব, জ্বর, মাথার যন্ত্রণা, দুর্বলতা, ডায়রিয়া, এবং পেটে অসহ্য যন্ত্রণা।
52. বালি মাছিকে চেনার উপায় কী?
উঃ। মশার চেয়ে আকারে ছোটো, দেহ রোমযুক্ত, পা লম্বা ও সরু। এরা সন্ধ্যের পর বাইরে বেরোয়।
53. কর্পোরেশনের জল, ফোটানো জল এবং পরিশুদ্ধ করা জল পান করার যোগ্য কেন?
উঃ। এই ধরণের জল পান করার যোগ্য কারণ এই প্রায় ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ এবং রোগ-জীবাণুমুক্ত।
54. খাদ্যবাহিত রোগ কাকে বলে?
উঃ। ভেজাল খাবার খেয়ে যে সমস্ত রোগ হয়ে থাকে সেগুলিকে খাদ্যবাহিত রোগ বলে।
55. পোলিও রোগের লক্ষণ কী?
উঃ। হাত-পায়ের মাংসপেশির অস্বাভাবিক শিথিলতা সমেত পক্ষাঘাত, জ্বর ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।
56. মশা আর সাধারণ মাছির রোগ সংক্রমণের মধ্যে কী পার্থক্য?
উঃ। সাধারণ মাছির দেহে রোগজীবাণু বংশবৃদ্ধি করে না কিন্তু মশার দেহে রোগজীবাণু বংশবৃদ্ধি করে।
57. কোন মশা নোংরা জলে ডিম পাড়ে?
উঃ কিউলেক্স মশা।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
1. আর্সেনিক রোগ কেন হয় ?
উঃ। মাটির নীচের জল নলকূপের মাধ্যমে তোলার সময় বায়ুর অক্সিজেন আর্সেনিকের অদ্রাব্য খনিজ বিক্রিয়া করে নানা যৌগ তৈরি হয়। ওই জল দীর্ঘদিন ধরে পান করলে এই রোগ হয়।
2. অ্যালার্জি কী? অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে কী করা উচিত?
উঃ। বাইরে থেকে আসা প্রোটিনের বিরুদ্ধে শরীরের ইমিউন তন্ত্রের যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাকেই অ্যালার্জি বলে। ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অস্বস্তি থেকে সাময়িক আরাম পাওয়ার ব্যবস্থা করা। কোন খাবার খেয়ে অ্যালার্জি। হয়েছে তা খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে ওই খাবার খাওয়া থেকে সতর্ক থাকা।
3. প্রোবোসিস কী? স্ত্রী মশা ও পুরুষ মশার প্রোবোসিস কেমন দেখতে হয়? প্রোবোসিসের কাজ কী?
উঃ। মশার বিভিন্ন মুখ-উপাঙ্গগুলো তাদের বিশেষ খাদ্যাভাসের জন্য পরিবর্তিত হয়ে যে গঠন তৈরি করে, তাকে প্রোবোসিস বলে। স্ত্রী ও পুরুষ মশার প্রোবোসিস যথাক্রমে সরু, তীক্ষ্ণ এবং ভোঁতা। প্রোবোসিস দিয়ে স্ত্রী মশা বিভিন্ন প্রাণীর চামড়া ভেদ করে রক্ত পান করে। পুরুষ মশার প্রোবোসিস উদ্ভিদের বিভিন্ন রস পান করে।
4. এক্স রশ্মি কখন ব্যবহার করা হয়? এই রশ্মি থেকে কী ক্ষতি হতে পারে ?
উঃ। রোগীর শরীরের ভেতর আঘাত পাওয়া বিভিন্ন অঙ্গের ছবি তুলতে এক্স রশ্মি ব্যবহার করা হয়। এই রশ্মি বেশি ও বারবার সরাসরি কোশের সংস্পর্শে এলে কোশের অস্বাভাবিক ক্রিয়া দেখা দেয় কোশ ধ্বংস হয়ে যেতেও পারে।
5. বার্ড ফ্লু কী? কী কারণে বার্ড ফ্লু হতে পারে ?
উঃ। এটি পাখিদের একধরণের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (HS Nj)। সাধারণত পোলটি মুরগিরা এই রোগে আক্রান্ত হয়। ভাইরাসে আক্রান্ত মুরগির মলমূত্র ও রক্তের সংস্পর্শে এলে অথবা বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত মুরগির কাঁচা মাংস 70 সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় 30 মিনিট রান্না না করা মাংস খেলে মানুষও বার্ড ফ্লু-তে আক্রান্ত হতে পারে।
6. পাস্তুরাইজেশন কী? কীভাবে পাস্তুরাইজেশন করা হয়?
উঃ। তরল খাবার (যেমন- দুধ ও ফলের রস)-কে জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পাস্তুরাইজেশন বলা হয়। দুধকে 10-40 সেকেন্ডের জন্য 72-75° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় গরম করা হয় এবং তৎক্ষণাৎ দুধের তাপমাত্রা 30 সেন্টিগ্রেডের নীচে নামিয়ে আনা হয়।
7. খাবারে জীবাণুর সংক্রমণ কীভাবে ঘটে?
উঃ । ডিম, মাংস প্রভৃতি পোলটিজাত খাবার, কাঁচা সবজি, পাস্তুরাইজড না করা দুধে অনেক সময় জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে। এইসব খাবার কাঁচা বা সঠিক ভাবে রান্না না করে খেলে শরীরে নানারকম রোগজীবাণুর সংক্রমণ ঘটে।
৪. কলেরা রোগ টি দ্রুত মহামারির আকার ধারণ করে কেন?
উঃ। কলেরা রোগীর বমি, পায়খানা, জলতেষ্টা, পেট ব্যথা, অবসন্ন বোধ করা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, রোগী নিস্তেজ হয়ে পড়া ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। এই পুরো ব্যাপারটি ঘটতে সময় লাগে খুবই অল্প-কখনও বা মাত্রই 24 থেকে 48 ঘন্টা। এই রোগের জীবাণু খুবই সংক্রামক ও জল দ্বারা বাহিত তাই এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ও মহামারীর আকার নেয়।
9. নদী, পুকুর ও কুয়োর জল পান করা যায় কি এবং কেন? এই জল পান করলে কী সমস্যা হয় ?
উঃ। এই জল পান করা যায় না, কারণ এই সব জলে কলকারখানার বর্জ্য বস্তু, অন্যান্য দুষিত পদার্থ ও বিভিন্ন রকমের গ্যাস মিশ্রিত থাকে।
10. মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় কী?
উঃ চৌবাচ্চা, বালতি ইত্যাদি জায়গায় জল 2-3 দিন অন্তর পালটানো দরকার। মশার লার্ভা খায় এমন মাছ (যথা— শোল, ল্যাটা, গাপ্পি, তেচোখা ইত্যাদি) জমা জলে ছেড়ে দেওয়া। তাছাড়া বদ্ধ নোংরা জলে ব্লিচিং পাউডার অথবা মশা মারার তেল ছড়িয়ে দেওয়া দরকার।
11. সাধারণ মাছিকে চেনার উপায় কী? সাধারণ মাছি কীভাবে রোগ ছড়ায়?
উঃ। সাধারণ মাছির বুক ধূসর রঙের, পিঠে চারটে লম্বা কালো দাগ, সারা দেহে রোম থাকে। এরা দিনের বেলায় সক্রিয় ও রাতের বেলায় নিষ্ক্রিয় থাকে। মাছি যখন মল-মূত্রে বসে তখন ওইগুলির ছোটো ছোটো কণা মাছির পায়ে ও শুঁড়ে আটকে যায়। ওই কণাগুলির ভেতরে থাকে অসংখ্য রোগজীবাণু। আর ওই মাছি যখন রান্না করা খাবারে বসে তখন রোগজীবাণু ওই খাবারে মিশে গিয়ে রোগ সংক্রমণ ঘটায়।
12. পশু থেকে মানুষের দেহে কীভাবে রোগ এসেছিল ?
উঃ।। কৃষি সভ্যতার প্রথম যুগে মানুষ নিজের প্রয়োজনে পশুপালন শিখেছিল, মানুষও পশু পাশাপাশি থাকতে শুরু করেছিল। মানুষ তখন পশুর দুধ খেত, তাদের চামড়া দিয়ে পোশাক তৈরি করত। আর পশু পাখিদের মলমূত্র থেকেই তাদের নানা সংক্রামক রোগ মানুষের দেহে সঞ্চারিত হয়েছিল।
13. প্রাচীন যুগে যক্ষ্মা রোগের সংক্রমণ সম্পর্কে কী জানা যায়?
উঃ। যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। ব্যাবিলনের রাজা হামুরাবির সময়ে খোদাই করা একটি পাথরে সম্ভবত পৃথিবীর প্রাচীনতম যক্ষ্মা রোগের স্বীকৃত উল্লেখ পাওয়া যায়। নগরায়ণ বা শিল্পায়নের সময় অনেক লোক যখন একসঙ্গে ছোটো জায়গায় থাকতে আরম্ভ করল তখন যক্ষা মহামারীর আকার নিল।
14. জলবাহিত রোগ কাকে বলে?
উঃ।। পানীয় জলের বিভিন্ন উৎসে নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ এসে মেশে। তেমনই আমাদের অসাবধানতার জন্য নানা রোগের জীবাণু ও অনেক সময় পানীয় জলে মিশে যায় এবং সেই জলের মাধ্যমেই তা ছড়িয়ে পড়ে। জলের মাধ্যমে যেসব রোগ ছড়ায় তারাই হল জলবাহিত রোগ।
15. খাবারে ভেজাল মেশানো আছে এই কথাটা কখন বলা যেতে পারে।
উঃ। (i) খাবারে এমন কিছু মেশানো আছে যাতে খাবারের খাদ্যগুণ কমে গেছে। (ii) খাবারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের বদলে অন্য কোনো সস্তার জিনিস মেশানো হয়েছে। (iii) খাবারটিকে আকর্ষক দেখাতে বা কাঙ্খিত স্বাদ আনতে তাতে এমন কিছু জিনিস ব্যবহার করা হয়েছে যা থেকে শরীরে নানারকম রোগ দেখা দিতে পারে।
16. আজিনামোটো কী? এথেকে কী ক্ষতি হতে পারে?
উঃ। আজিনামোটো একধরণের রাসায়নিক পদার্থ। চাউমিন ও চিলি চিকেনের রান্নায় সুন্দর স্বাদ আনার জন্য এই পদার্থ ব্যবহার করা হয়। কোনো খাবারে আজিনামোটো মেশালে তাতে একটা মাংসের মতো স্বাদ আসে। অনেকদিন ধরে আজিনামোটো খেলে মানুষের শরীরে নানারকম সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে কমবয়সী ছেলেমেয়েদের মস্তিষ্কের কোশের ক্ষতি হতে পারে।
17. ল্যাথিরিজম কী ?
উঃ। অন্যান্য ডালের চেয়ে খেসারির ডালের দাম কম হওয়ায় অনেক সময় অড়হর ডাল বা বেসনের সঙ্গে খেসারির ডাল বা তার গুঁড়ো মিশিয়ে দেওয়া হয়। 2-3 মাস ধরে যথেষ্ট পরিমাণে এই ডাল খেলে হাতে ও পায়ে পক্ষাঘাত দেখা দিতে পারে। একেই ল্যাথিরিজম বলা হয়। ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষে অনেকসময় এই রোগ দেখা গেছে।
18. ড্রপসি রোগ কীভাবে হয়?
উঃ। সরষের বীজের মতো দেখতে শিয়ালকাঁটার বীজের তেল অনেকসময় সরষের তেলের সঙ্গে মেশানো হয়। এই ভেজাল সরষের তেল খেলে ড্রপসি নামে একটি রোগ হয়। এই রোগে চামড়া, যকৃৎ, বৃক্ক, ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে।
19. পরজীবী থেকে কীভাবে রোগ হয়ে থাকে?
উঃ। বিভিন্ন পশুর শরীরে অনেকসময় কৃমিজাতীয় কিছু প্রাণী বাসা বাঁধে। এই কৃমিরা হল পরজীবী। পরজীবীরা আশ্রয় নিয়েছে এমন পশুর কাঁচা মাংস বা সঠিক তাপমাত্রায় রান্না না করা মাংস খেলে এইসব পরজীবীরা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং নানারকম রোগের সৃষ্টি করে।
20. উৎসেচকের ক্রিয়ার ফলে কীভাবে খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে?
উঃ। উদ্ভিদজাত বা প্রাণীজাত খাবার কোশ দিয়ে তৈরি। আর ওই কোশেই থাকে নানাধরণের উৎসেচক। উদ্ভিদজাত বা প্রাণীজাত খাবারগুলি টাটকা অবস্থায় রান্না না করে ফেলে রাখলে উৎসেচকেরা ওই খাবারগুলির রং বা স্বাদের বদল ঘটিয়ে দেয় ফলে খাবারগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
21. ছত্রাক কীভাবে উপকার করে?
উঃ। পাউরুটি, চিজ, অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় তৈরি করতে আমরা অনেক সময় ছত্রাকের সাহায্য নিয়ে থাকি। যেমন কয়েক ধরণের পেনিসিলিয়াম থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ তৈরি হয়। পাউরুটি তৈরি করতে ইস্ট লাগে।
22. ব্যাকটেরিয়া কীভাবে উপকার করে ?
উঃ। দই এবং বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার তৈরিতে সাহায্য করে ল্যাকটোব্যাসিলাস জাতীয় ব্যাকটেরিয়া। স্ট্রেপটোমাইসেস ব্যাকটেরিয়ার কয়েকটি প্রজাতি থেকে নানারকম জীবনদায়ী ওষুধ আমরা পেয়ে থাকি। এছাড়াও মানুষের শরীরের অন্ত্রে বাস করে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া যারা ভিটামিন B, তৈরি করতে সাহায্য করে।
23. প্লেগ রোগ কীভাবে ছড়ায়?
উঃ। প্লেগ রোগের অন্যতম বাহক মেঠো কালো ইঁদুর। এই মেঠো ইঁদুরের চামড়ায় বাসা বাঁধে এক ধরণের উকুন। আর এই উকুনের পাকস্থলীতে প্লেগের জীবাণু আশ্রয় নেয়। এই জীবাণুগুলি খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পেয়ে ইঁদুরের উকুনের পাকস্থলীর পথ বন্ধ করে দেয়াল। ফলে উকুনটি অনাহারে যাকে সামনে পায় তাকে কামড়ায় আর সেই ক্ষতস্থানে প্লেগের জীবাণু বমি করে দেয়। এই ক্ষতস্থান থেকেই প্লেগের সংক্রমণ ঘটে। এই উকুন ইঁদুরকে কামড়ালে ইঁদুরে আর মানুষকে কামড়ালে মানুষের শরীরে প্লেগের সংক্রমণ হয়।
24. কে কবে কী থেকে ম্যালেরিয়া জ্বর সারানোর ওষুধ আবিষ্কার করেন?
উঃ। 1600 সালে পেরুর পাদরি জুয়ান লোপেজ, আবার অন্যমতে 1633 সালে কালা সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে ম্যালেরিয়া জ্বর সারানোর ওষুধ আবিষ্কার করেন
25. মশা কীভাবে রোগ ছড়ায়?
উঃ। মশার দেহে একটা লম্বা ফাঁপা নলের মতো প্রোবেসিস থাকে। স্ত্রী মশার ক্ষেত্রে এটি হয় তীক্ষ্ণ ও সরু, এটি দিয়েই চামড়া ভেদ করে স্ত্রী মশা বিভিন্ন প্রাণীর রক্তপান করে। কোনো প্রাণীর রক্ত পান করার সময় স্ত্রী মশা প্রোবেসিসের মধ্য দিয়ে তার লালা প্রাণীটির দেহে প্রবেশ করিয়ে দেয়। এই লালার সঙ্গেই স্ত্রী মশার দেহে বাসা বাঁধা রোগজীবাণু ওই প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে।
26. ম্যালেরিয়ার জীবাণু কীভাবে বংশবৃদ্ধি করে ?
উঃ। বংশবৃদ্ধি করার জন্য ম্যালেরিয়া জীবাণুর মশার দেহ ছাড়া আরেকটা প্রাণীর দেহ প্রয়োজন। প্রায় 100টি প্রজাতির বেশি ম্যালেরিয়া জীবাণু বিভিন্ন ধরণের মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে বংশবৃদ্ধি করে চলেছে। কিন্তু ম্যালেরিয়া জীবাণুর মাত্র চারটি প্রজাতি ছাড়া অন্য কোনো প্রজাতি মানুষকে তাদের বংশবৃদ্ধির নিয়মিত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেনি।
27. প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স কী? কীভাবে বংশবৃদ্ধি করে?
উঃ। প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স হল ম্যালেরিয়া জীবাণুর একটি প্রজাতি। প্লাসমোডিয়াম জীবাণু বেঁচে থাকার জন্য মশা ও অন্য আর একটি মেরুদন্ডী প্রাণীর দেহে এরা বেড়ে ওঠে। তাই মশা হল মুখ্য বা নির্দিষ্ট পোষক আর মেরুদণ্ডী প্রাণীরা হল গৌণ বা অন্তবর্তী পোষক।
28. তেজস্ক্রিয় পদার্থ কাদের বলা হয়?
উঃ। ইউরেনিয়াম, প্লুটোরিয়াম, প্রভৃতি পদার্থ ও তাদের যৌগ থেকে অবিরামভাবে কিছু অদৃশ্য রশ্মি বের হয়। এইসব রশ্মি ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। এদের বলা হয় তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
29. ডিসলেক্সিয়া কী ?
উঃ। ডিসলেক্সিয়া হল একধরণের রোগ বা মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা। সাধারণত এই ধরণের সমস্যায় ভোগা মানুষের পড়া বুঝতে, মনে রাখতে আর লিখতে অসুবিধা হয়। অক্ষর চিনতে ও লিখতে, বানান মনে রাখতে অঙ্কের হিসাব করতে, নানা তথ্য মনে রাখতে আর বুঝতে অসুবিধা হয়। বিজ্ঞানীরা ও ধরনের ডিসলেক্সিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন শ্রবণজনিত, পুষ্টিজনিত ও মনোরোগজনিত ।
30. অটিজমের সমস্যাগুলি কী কী ?
উঃ। একই কাজ বারবার করা। আত্মীয় পরিজনদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া। সামান্য উত্তেজনাতেও অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠা। অনেকসময় বেশি উত্তেজনাতেও সাড়া না দেওয়া। অচেনা পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারা। পড়াশোনায় পিছিয়ে যাওয়া প্রভৃতি।
31. মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেসনের সমস্যাগুলি কী কী?
উঃ। খিদে খুব বেড়ে যাওয়া। ঘুম বেড়ে যাওয়া। প্রায় সময়েই কাঁদা। মন খারাপ করে একা একা বসে থাকা। সবসময় অসহায় বোধ করা।
32. মনোযোগহীনতার সমস্যাগুলি কী কী ?
উঃ। ক্লাসে স্থিরভাবে বসতে না পারা। সহপাঠীদের ক্রমাগত বিরক্ত করা। একই কাজে বা খেলায় মনোনিবেশ করতে না পারা। রেগে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে থাকা।
33. মনোবিদ কারা ?
উঃ। যারা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দেখভাল করেন তাদের মনোবিদ বলা হয়। এঁরা বিভিন্ন দ্বন্দ ও টানাপোড়েন আমাদের মানসিক চাপ তৈরি হলে আলাপ আলোচনার করা সমস্যা শনাক্ত করে তার থেকে মুক্তির উপায় দেখিয়ে দেয়।
34. মনোচিকিৎসক কাদের বলে?
উঃ। যারা ওষুধের দ্বারা আমাদের মানসিক রোগের চিকিৎসা করেন তাঁদের মনোচিকিৎসক বলে। শারীরিক ও মানসিক অসুখ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলে তার নিরাময় মনোচিকিৎসক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
35. পোলট্টি কাকে বলে? পোলট্রিজাত খাবার কী ?
উঃ। বিজ্ঞানসম্মতভাবে হাঁস, মুরগি প্রভৃতি প্রতিপালন কে পোলট্রি বলা হয়। পোলট্রি থেকে আমরা যে ধরনের খাবার পাই তাকে পোলট্রিজাত খাবার বলে। যেমন ডিম, মাংস।
36. জীবনকুশলতা শিক্ষা কাকে বলে?
উঃ। জীবনের নানা সময়ে মানুষকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় এবং তার মোকাবিলা করতে হয়। এছাড়াও নানা সময়েও আমাদের অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে হয় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, এই সবের মধ্য দিয়ে সংবেদনশীল ও সমাজমনস্ক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষাকে বলা হয় জীবনকুশলতা শিক্ষা।
37. মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কী কী করা উচিত ?
উঃ। (i) আমাদের ব্যবহারিক অভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার, অর্থাৎ কুঅভ্যাস কে শনাক্ত করে সুঅভ্যাস পরিণত করা। (ii) মনের মধ্যে কথা চেপে না রেখে অন্যদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা উচিত। (iii) বিভিন্ন বিতর্কিত ও সমকালীন বিষয়ে বন্ধুবান্ধব ও গুরুজনদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করা। (iv) পাঠ্য বিষয়ের বাইরে জ্ঞানবিষয়ক চর্চা এবং নাচ, গান, ছবি আঁকা ইত্যাদি সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়া উচিত।